আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগআলমডাঙ্গার শ্যামপুরের নতুন ব্রীজটি ঢালাইয়ের ১৫ দিনের মাথায় গার্ডারে ফাটল

আলমডাঙ্গার শ্যামপুরের নতুন ব্রীজটি ঢালাইয়ের ১৫ দিনের মাথায় গার্ডারে ফাটল




বিশেষ প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুরের নতুন ব্রীজটিতে ঢালায় দেওয়ার ১৫ দিনের মাথায় গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্যান্য জায়গার ফাটলগুলো মানুষের চোখ এড়াতে প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ধীর গতির নির্মাণ কাজের কারণে এলাকার ১৪ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ব্রীজ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে ত্রুটির কারণে এ ফাটল দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে কুমার নদের উপর ব্রীজ নির্মাণ করে। ব্রীজ নির্মাণ করা হয় চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সহজে যাতায়াত করার জন্য। বেশ কয়েক বছর আগে ব্রীজটি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে পুরাতন এ ব্রীজ দিয়ে পথচারী ও ছোট ছোট যানবহন কোন রকমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণে উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। নতুন ব্রীজ নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। পরে কাজের সময় ৬ মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৬ মাস সময় বৃদ্ধি করলেও কচ্ছপ গতিতে কাজ চলমান রয়েছে। ব্রীজের গার্ডার ঢালাই দেওয়ার ১৫ দিনের মাথায় ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্যান্য জায়গার ফাটলগুলো প্লাস্টার করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। রডগুলোতে মরিচা ধরেছে।
চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির সূত্র আরো জানায়, উইকেয়ার প্রকল্পের আওতায় জেহালা থেকে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক ও শ্যামপুর গ্রামের কুমার নদের উপর ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের চুক্তি মূল্য ৮৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্রীজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। যশোরের মইনুদ্দিন বাঁশি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রীজ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে ত্রুটির কারণে এ ফাটল দেখা দিয়েছে।অনিয়মের বিষয়ে কিছু বললেই ভয়ভীতি দেখানো হয়। কাজ না শেষ হতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফাটলগুলো কৌশলে প্লাস্টার করে ফেলেছে চোখ এড়ানোর জন্য। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিজে ফাটল ধরেছে। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। কাজে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিজে আগেই ফাটল ধরায় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে। সকল সমস্যার সমাধান করতে আমরা কাজ করছি। তিনি জানান, ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হলে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, লেগুনা, আলমসাধুসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় ২৬০ থেকে ২৭০টি যানবহন ও ১৪ গ্রামের প্রায় ১১ হাজার মানুষ চলাচল করে। কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিমুক্ত কাজের মাধ্যমে ব্রীজটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন এমনটি প্রত্যাশা করেছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ