নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যার প্রবণতা, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর ধরে সচেতনতামূলক ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম তারিক উজ জামান। সভার শুরুতে এনজিও বিষয়ক সমন্বয় কমিটির গত আগস্ট মাসের সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন ফাহাদ চৌধুরী।
সভায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর গত মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী মাসে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় এনজিওগুলোর কার্যক্রম আরও সমন্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় মাদক নির্মূল, আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাস, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ধরনের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। আত্মহত্যা পরিস্থিতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু কোনো বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি পালন না করে সারা বছর নিয়মিত সচেতনতামূলক, কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম তারিক উজ জামান বলেন, প্রতিটি এনজিওকে প্রতি মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা এক মাসে কোথায় উঠান বৈঠক করবেন, কোথায় যাবেন, কী পরিদর্শন করবেনÑতা মাসের শুরুতেই জানিয়ে দিতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি খোঁজ করছি, জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে কারা কাজ করছে। আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনকেও কাজ করতে হবে। অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতার দিক তুলে ধরে বি.এম তারিক উজ জামান বলেন, অনলাইন জুয়া মাদকের মতোই একটি বড় নেশা। বিশেষ করে তরুণেরা এ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশায় জুয়ার টাকার জোগান দিতে গিয়ে অনেকে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য উঠান বৈঠক, সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের বিগত মাসের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আগামী মাসে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে কী ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, তার কর্মপরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন তারা। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের কৃষি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান, ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ান রুগ্গা, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান, সুবর্ণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মিম্মা মিতাসহ জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা।


