নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক, ওষুধ, কীটনাশক, ইমিটেশন গহনা ও কসমেটিকস উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে এবং গতকাল রবিবার ভোরে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)’র আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মাধবখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালায় ব্যাটালিয়ন সদরের একটি টহল দল। নায়েব সুবেদার মাইন উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ৬৯/৪-এস থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী মাঠের পাকা সড়কের পাশে আলমের আমবাগানে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে আমবাগানের মাটির নিচে একটি গর্তের সন্ধান পায় বিজিবি সদস্যরা। সেখান থেকে ৬০ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে ওই এলাকা থেকে আরও ১ হাজার ৫৫৬ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে যাদবপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি। নায়েব সুবেদার আব্দুস সালামের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৪৭/৭-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোপালপুর এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে মো. আব্দুল্লাহর ঘাসক্ষেতের পাশ থেকে ১৩৭ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গতকাল রবিবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে লড়াইঘাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরেকটি চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। হাবিলদার মাহামুদুর রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ৬১/২-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হালদারপাড়া গ্রামের হামিদুলের কলাবাগানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে কলাবাগানের ভেতর থেকে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের ইমিটেশন গহনা ও কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়। তবে এসব পণ্য বহন বা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)’র সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে।


