নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী আব্দুস সবুরকে গত ১০ সেপ্টেম্বর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলি আদেশ প্রত্যাহারে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্মরত থাকা এবং হাসপাতালের টেন্ডার ও কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আব্দুস সবুর টেন্ডার ও কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বদলি প্রত্যাহারের জন্য চেষ্টা করার বিষয়টি অবশ্য তিনি স্বীকার করে বলেন, অবসরের আর প্রায় তিন বছর বাকি। নিজ জেলায় কর্মরত থাকায় মানবিক কারণে বদলি আদেশ প্রত্যাহারের জন্য কিছুটা চেষ্টা করছেন তিনি। তবে তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একই কর্মস্থলে তার দীর্ঘদিন থাকার মেয়াদ এবং অতীতে বদলি হওয়ার পর আবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফিরে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত থাকার পর আব্দুস সবুরকে মেহেরপুরে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে না থেকে আবার আগের কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি দরপত্র ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তত্ত্বাবধায়কের ভাষ্য, নতুন প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে আব্দুস সবুর দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ পেয়েছেনÑএমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা হাসপাতালে এলে আব্দুস সবুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি বিষয় নিয়েও তার সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি প্রমাণিত হয়েছে কী-না, তাৎক্ষণিকভাবে তার পক্ষে কোনো দাপ্তরিক নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সবুর বলেন, তিনি একটানা ১৫ থেকে ১৭ বছর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন না। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর এখানে চাকরি করেছেন। পরে বদলি হয়ে অন্যত্র যাওয়ার পর আবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে এসে বর্তমানে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত আছেন। টেন্ডার ও কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, হাসপাতালের সব ধরনের কেনাকাটা ও টেন্ডার পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, কোনো কর্মচারীর নয়। সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। বদলি প্রত্যাহারে তদবিরের বিষয়ে আব্দুস সবুর বলেন, অবসরের আর প্রায় তিন বছর বাকি। নিজ জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিক কারণে তিনি বদলি আদেশ প্রত্যাহারের জন্য কিছুটা চেষ্টা করছেন।
আব্দুস সবুরের একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনও। তার মতে, সরকারি চাকরিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কর্মপরিবেশে গতিশীলতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি হওয়া উচিত। সাধারণভাবে তিন থেকে চার বছর পর কর্মস্থল পরিবর্তন করা হলে দায়িত্ব পালনে ভারসাম্য বজায় থাকে। সিভিল সার্জনের ভাষ্য, কোনো কর্মচারীর বদলির আদেশ হলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়।
এ কারণে আব্দুস সবুরের বর্তমান বদলি আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব খাটানো হয়েছে কী-না, কিংবা অতীতে বদলি হওয়ার পর কী প্রক্রিয়ায় তিনি আবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফিরে এসেছিলেনÑতা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তার আগের বদলি আদেশ, নতুন কর্মস্থলে যোগদান, পুনরায় চুয়াডাঙ্গায় ফেরার অনুমোদন বা পুনর্বহালের নথি এবং সর্বশেষ বদলি আদেশ পর্যালোচনা করলে কর্মস্থল পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট হতে পারে। একইভাবে হাসপাতালের টেন্ডার ও কেনাকাটার সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কী-না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার নথি, কার্যাদেশ, ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির নথিও পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। কারণ, দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা নিজেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। আবার কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্ত ছাড়া সত্য ধরে নেয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষভাবে দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা ও প্রয়োজন হলে তদন্তই দিতে পারে চূড়ান্ত উত্তর।


