কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরি গ্রামে রাতের আঁধারে এক কৃষকের ১৫ কাঠা জমির ফলন্ত শিমগাছ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই রাতে জমিতে থাকা একটি ইঞ্জিনচালিত স্যালোমেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়ারও অভিযোগ করেছেন ওই কৃষক। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে কালিয়াবকরি গ্রামের দোয়ার মাঠ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শিমক্ষেত দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াবকরি গ্রামের মৃত খোদাবক্স মণ্ডলের ছেলে কৃষক হারুন অর রসিদ দোয়ার মাঠে প্রায় ১৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন। ক্ষেতের শিমগাছগুলো তখন ফুলে-ফলে ভরে উঠেছিল। শিম বিক্রির সময়ও ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে তার ক্ষেতের ফলন্ত শিমগাছগুলো কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হারুন অর রসিদের দাবি, এতে তার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু শিমক্ষেত নয়, একই রাতে ওই জমিতে থাকা জনৈক বকুলের একটি ইঞ্জিনচালিত স্যালোমেশিনেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কৃষক হারুন অর রসিদ বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে কালিয়াবকরি গ্রামের মজিবর, আজিমউদ্দিন ও আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
কৃষক হারুন অর রসিদ বলেন, শত্রুতামূলকভাবে আমার ফলন্ত শিমক্ষেত ও স্যালোমেশিনের ক্ষতি করা হয়েছে। শিম বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। এখন পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মজিবর। তিনি বলেন, আমার চাচাতো ভাইয়ের স্যালোমেশিন খোলা যাচ্ছিল না। তাই সে নিজেই আগুন ধরিয়ে হুজপাইপ খুলেছে। এখানে মেশিন পোড়ানোর অভিযোগ কোথা থেকে এলো? শিমগাছ কাটার অভিযোগও অস্বীকার করে মজিবর বলেন, আমার মতো মানুষ তার শিমগাছ কাটতে যাবÑএ লজ্জা রাখব কোথায়? হারুনরা নিজেরাই শিমগাছ কেটে আমাদের দোষারোপ করছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জমিজমা নিয়ে আমাদের বিরোধ থাকায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বদনাম রটানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, শিম কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত-পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


