নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক যাত্রীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনালে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। আটক দেলোয়ার হোসেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাপানিয়া উত্তরপাড়ার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিএন্ডবি পাড়ার বসবাস করতেন। এছাড়া তিনি আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার দুপুর একটার দিকে পৌর বাস টার্মিনালে অবস্থানরত পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ২ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভাষ্য, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে তার কাছে ছিল। তবে ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বা কোথায় নেয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, শনিবার বাস টার্মিনালের ভাই ভাই হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে মেহেরপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৪১০। তল্লাশির সময় বাসের এ-৪ নম্বর আসনে বসা দেলোয়ার হোসেনের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার ডান হাতে থাকা লাল রঙের ‘মা ফেব্রিকস’ লেখা একটি সিনথেটিক শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য অ্যামফিটামিনযুক্ত ২ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি। জব্দ করা ইয়াবাগুলো সদর থানায় হস্তান্তর করা হবে। এরপর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জব্দ করা ইয়াবা ধ্বংস করা হবে।’


