নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পানি শোধনাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, হাসপাতালের নিরাপত্তা, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এবং কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার। সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভার শুরুতে জেলার সার্বিক উন্নয়নচিত্র, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক উজ জামান।
সভায় জানানো হয়, জেলা পরিষদের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বড় বাজারের হাসান চত্বরের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সভায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে এসির তার ও অন্যান্য মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছে বলে সভায় জানানো হয়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হয়। শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পানি শোধনাগারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সভায় জানানো হয়, শোধনাগারটি চালু করতে গেলে পৌরসভাকে মাসে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে। এ ধরনের আর্থিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মিত স্যানিটারি ল্যান্ডফিলও পুরোপুরি চালু হয়নি বলে সভায় জানানো হয়। পানি শোধনাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিতভাবে কার্যকর না থাকায় বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন সভার সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, জেলার উন্নয়নে সব সরকারি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারস্পরিক সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই। সড়কের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, এসব গাছ মানুষের জীবন ও যানবাহনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি খাতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকেরা যাতে চাহিদা অনুযায়ী সার পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করছেন কি না, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। শারমিন আক্তার বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন আমবাগানে সার প্রয়োগের সময় চলছে। তাই সার বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। প্রকৃত কৃষকের কাছে যাতে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও সভায় তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, হাসপাতালের ড্রেনগুলো প্রায়ই অপরিচ্ছন্ন থাকে। পৌরসভার ড্রেনের তুলনায় হাসপাতালের ড্রেন নিচু হওয়ায় সেখানে ময়লা জমে থাকার প্রবণতা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে গণপূর্ত বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা মতামত দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) লিটন বিশ্বাস, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি প্রমুখ।


