আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজআইন আদালত‘অর্থের অভাবে কোনো ব্যক্তি যেনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়’

‘অর্থের অভাবে কোনো ব্যক্তি যেনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়’




নিজস্ব প্রতিবেদক:

অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন এ লক্ষ্য সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় সরকারি আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইড) কার্যক্রম আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তার তথ্য পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত হাতে নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিগ্যাল এইডের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে লিগ্যাল এইড হেল্প ডেস্ক চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সরকারি দপ্তর ও আদালত প্রাঙ্গণে লিফলেট ও পোস্টার স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানানো হবে।
গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম। সভায় বলা হয়, সরকারি বিনা মূল্যের আইনগত সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে এখনো জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ জানেন না। ফলে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল অনেক মানুষ আইনি সমস্যায় পড়লেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন না। এ অবস্থায় শুধু আদালতকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে লিগ্যাল এইডের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
সভা শুরুতে লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে আগের সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন করা হয়। এরপর গত ২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত দাখিল করা ৯৬টি আবেদনের বিষয়ে সদস্যদের অবহিত করা হয়। এসব আবেদন নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তা সভায় উপস্থাপন করা হয়। একই সময়ে লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীদের জমা দেয়া ৩০টি বিলও সভায় উপস্থাপন করা হয়। কোনো আপত্তি না থাকায় বিলগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রচার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে নিয়মিত প্রচারণা চালানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এতে অল্প সময়ে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে লিগ্যাল এইডের সেবা ও সুযোগ-সুবিধার তথ্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিনামূল্যের আইনগত সহায়তা যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই লিগ্যাল এইড কমিটির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, কোনো মানুষ যেন অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যদের আরও সক্রিয়, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যত বেশি সচেতনতা তৈরি হবে, তত বেশি মানুষ এই সেবার আওতায় আসবেন। তাই শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রচারণা নয়, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে এ সেবার তথ্য পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় অংশ নেয়া প্যানেল আইনজীবীরা জানান, চুয়াডাঙ্গায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম বর্তমানে ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক মানুষ এখন লিগ্যাল এইড সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা নিতে আসছেন। তবে তাদের অভিজ্ঞতায়, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সহায়তা নিতে আসা অনেক ব্যক্তি এতটাই দরিদ্র যে আদালতে আসা-যাওয়ার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মানবিক বিবেচনায় অনেক আইনজীবী নিজেদের অর্থে তাদের যাতায়াতের ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। আইনজীবীদের মতে, এতে শুধু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে না, সরকারি বিনা মূল্যের আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ছে।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিগ্যাল এইডের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি আইনগত সহায়তার প্রয়োজন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গেলে তাকে দ্রুত লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে পাঠানো কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে লিগ্যাল এইড হেল্প ডেস্ক চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এসব হেল্প ডেস্ক চালু হলে আইনগত সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও জনবান্ধব হবে। এনজিও প্রতিনিধিরা সভায় জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে উঠান বৈঠক, সচেতনতামূলক সভা ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করছেন। এসব উদ্যোগের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ সরকারি বিনা মূল্যের আইনগত সহায়তার বিষয়ে জানতে পারছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও লিগ্যাল এইডের প্রচারণা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রচার বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভা পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মোরশেদ আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হবিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার এ এস এম আব্দুর রউফ শিবলু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. সাজিদ হাসান, ইয়াসমিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম, বিশেষ পিপি এম. এম. শাহাজান মুকুল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সিনিয়র সাংবাদিক মানিক আকবরসহ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ