আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশআখের দাম বৃদ্ধিতে দর্শনা কেরু চিনিকল ঘিরে চাষিদের নতুন আশার আলো

আখের দাম বৃদ্ধিতে দর্শনা কেরু চিনিকল ঘিরে চাষিদের নতুন আশার আলো




দর্শনা অফিস:

আখচাষিদের দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে বাড়ল আখের সরকারি মূল্য। ২০২৬-২০২৭ মাড়াই মৌসুম থেকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন চিনিকলগুলোতে মিলগেটে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬২৫ টাকা থেকে ২৬ টাকা বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা এবং বহিঃকেন্দ্রে ৬১২ টাকা থেকে ২৫ টাকা ৪৬ পয়সা বাড়িয়ে ৬৩৭ টাকা ৪৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আখের মূল্য পুনর্র্নিধারণের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের আখচাষিদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। চাষিদের প্রত্যাশা, আখের দাম বাড়ায় আগামী মৌসুমে আখের আবাদ বাড়বে এবং এর সুফল পাবে কৃষক ও চিনিকল উভয়ই। বিএসএফআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন চিনিকলসমূহে ২০২৬-২০২৭ মাড়াই মৌসুমে আখের মূল্য পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে গঠিত স্থায়ী কমিটির গত ২০ জুলাইয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মূল্য করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন মাড়াই মৌসুমে মিলগেটে প্রতি কুইন্টাল আখের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫১ টাকা। এর আগে এ মূল্য ছিল ৬২৫ টাকা। অর্থাৎ কুইন্টালপ্রতি ২৬ টাকা বা ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বহিঃকেন্দ্রে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬১২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৩৭ টাকা ৪৬ পয়সা। এতে কুইন্টালপ্রতি দাম বেড়েছে ২৫ টাকা ৪৬ পয়সা। শুধু মূল দামই নয়, মাড়াই মৌসুমের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে আখ সরবরাহে অতিরিক্ত মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থাও আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ দিন অন্তর পাঁচ দফায় প্রতি কুইন্টাল আখের মূল্য ৬ টাকা করে বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে ৮ শতাংশের বেশি চিনি আহরণ হলে আখচাষিদের প্রিমিয়াম মূল্য দেয়ার ব্যবস্থাও অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মিলের মাড়াইয়ের জন্য সরবরাহযোগ্য আখের মূল্যের অতিরিক্ত হিসেবে বীজ আখের দামও বাড়ানো হয়েছে। এফএস ও সিএস শ্রেণির বীজ আখের মূল্য প্রতি কুইন্টাল ১৪ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ১৬ টাকা এবং টিএলএস শ্রেণির বীজ আখের মূল্য ৮ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিএসএফআইসির সিনিয়র সহকারী সচিব আয়েশা জান্নাত তাহেরার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। আখের মূল্য বৃদ্ধির খবর আখচাষিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, দলীয় সভা, আখচাষি সমাবেশ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে চাষিদের কাছে নতুন মূল্য ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরার জন্য বলা হয়েছে।
বিএসএফআইসির প্রধান (সিপিই) ড. জেবুন নাহার ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সংক্রান্ত তথ্য কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানকে জানানো হয়েছে। আখের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দর্শনা আখচাষি কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক মাহাবুবুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, আখের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দ ও খুশির খবর। তবে আখের মূল্য আরও কিছুটা বাড়িয়ে আখের পাশাপাশি চিনির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে মিল, সরকার ও চাষি সব পক্ষই লাভবান হতো। তিনি বলেন, কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আখচাষিদের সঙ্গে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় করেছেন। এসব আলোচনায় চাষিদের পক্ষ থেকে আখের দাম বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল। ব্যবস্থাপনা পরিচালকও আখের দাম বাড়ানোর বিষয়ে চাষিদের আশ্বস্ত করেছিলেন। মাহাবুবুল ইসলাম খোকনের ভাষ্য, সেই ধারাবাহিকতায় চিনিশিল্প করপোরেশনের বৈঠকের মাধ্যমে আখের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় চাষিরা উৎসাহিত হয়েছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইক্ষু রোপণ মৌসুম শুরু হলে এ অঞ্চলের কৃষকেরা আগের তুলনায় আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহাবুবুল ইসলাম খোকন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু চিনিকল সর্বসাকল্যে ২৬৫ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। এবার আখের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী মৌসুমে পর্যাপ্ত আখ পাওয়া গেলে চিনিকলের উৎপাদন ও মুনাফা আরও বাড়তে পারে।
আখচাষিদের মতে, চিনিকলের সঙ্গে কৃষকের সম্পর্ক অনেকটা একই সুতোয় বাঁধা। কৃষক লাভবান হলে আখের আবাদ বাড়বে, মিলের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামাল নিশ্চিত হবে। আর পর্যাপ্ত আখ পেলে চিনিকলের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, কমবে কাঁচামালের সংকট। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্পকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ আরও মসৃণ হতে পারে। আখের নতুন মূল্য নির্ধারণকে তাই শুধু কৃষকের আয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, কেরুর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত করে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ইক্ষু রোপণ মৌসুমে চাষিরা কতটা সাড়া দেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে নতুন মাড়াই মৌসুমে কেরুর আখ সংগ্রহ ও উৎপাদনের চিত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ