আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় এক প্রবাসীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, ঘরের টিন কেটে ফেলা এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী কামরুল হাসান (২৫) কায়েতপাড়া গ্রামের মৃত মনিয়ার জোয়ার্দারের ছেলে। এ ঘটনায় তিওরবিলা গ্রামের রাজিয়া খাতুন (৩০), সাইরা খাতুন (৩৫), গোলাম সরোয়ার (৪০), রুজ্জার (৪২), নওলামারি গ্রামের ঝন্টু (৩৮) ও নাজমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে কামরুল হাসানের সঙ্গে তিওরবিলা গ্রামের কুটিপাড়ার গোলাম সরোয়ারের মেয়ে রাজিয়া খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে কামরুল জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে যান। পরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় এক বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রাজিয়া পরে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন।
কামরুলের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সকালে রাজিয়া খাতুন তার বর্তমান স্বামীসহ কয়েকজনকে নিয়ে কায়েতপাড়ায় কামরুলের বাড়িতে যান। সেখানে তারা ভাঙচুর চালান। এ সময় ঘরের টিন কেটে ফেলা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কামরুলের মা হালিমা খাতুন বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখি বসতভিটা ও বেড়া ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘরের টিনও কেটে ফেলা হয়েছে। ঘরে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা, স্বর্ণের চুড়ি ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোজিনা খাতুন বলেন, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘর থেকে বের হন। এ সময় কয়েকজনকে কামরুলের বসতভিটায় ভাঙচুর করতে দেখেন। পরে তারা বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত চলে যান বলে জানান তিনি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া খাতুন, তার বর্তমান স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


