আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাঁদনী খাতুন (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর প্রথমে তার পরিচয় জানা না গেলেও পরে ভিডিও চিত্র দেখে তাকে শনাক্ত করেন বাবা ছবিরুল ইসলাম। পরিচয় শনাক্তের পর গতকাল বুধবার বিকেলে নগরবোয়ালিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। চাঁদনী খাতুন গত ১২ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। পরে তাকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পরপরই তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে লাশটি অজ্ঞাত নারী হিসেবে হাসপাতালে রাখা হয়। পরে তার ভিডিও চিত্র দেখে বাবা ছবিরুল ইসলাম মেয়েকে চিনতে পারেন। এরপর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে লাশ হাটবোয়ালিয়ায় তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর চাঁদনী খাতুন দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন স্টেশনপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর কয়েকজন চাঁদনী খাতুনকে নিয়ে মাদকাসক্তি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চাঁদনী খাতুন ১২ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। তার সাবেক স্বামী আলমডাঙ্গার হাটুভাঙ্গা গ্রামে বসবাস করেন। ছেলেটি বর্তমানে বাবার কাছেই রয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বাদ আসর নগরবোয়ালিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে চাঁদনী খাতুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাইল বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ না পাওয়া গেলে ঘটনাটি অজ্ঞাতনামা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।


