নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরকে যানজটমুক্ত রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ সদস্যদের আরও সহিষ্ণুতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। একই সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর ট্রাফিক অফিসের বার্ষিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি ট্রাফিক অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও বিভিন্ন রেজিস্টারপত্র পর্যালোচনা করেন এবং দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ফাঁড়ির মেসে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং ফোর্সের ব্যারাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের ছুটি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা টিআই (প্রশাসন) আমিরুল ইসলামসহ সদর ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে জেলা পুলিশের মাসিক কীট পরিদর্শন প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা কর্মকর্তা ও সদস্যরা এতে অংশ নেন। প্যারেডে অভিবাদন মঞ্চ থেকে সালামি গ্রহণের পর পুলিশ সদস্যদের কীট সামগ্রী পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তিনি কীট সামগ্রীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রাপ্যতার অগ্রাধিকার অনুযায়ী বিভাগীয় পোশাক ভাণ্ডার থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট ইনচার্জকে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কোনো সদস্যের মালামালসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরকারি নম্বরে জানাতেও পরামর্শ দেন তিনি। সালামি গ্রহণ ও কীট সামগ্রী পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন মিনহাজ-উল-ইসলাম। তিনি পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ড্রেস রুলস অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পোশাক পরিধান, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সদাচরণ ও পেশাদার আচরণ করার নির্দেশনা দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনে দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। মাসিক কীট পরিদর্শন প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পরিদর্শন ও প্যারেডের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা, পোশাক-পরিচ্ছন্নতা, সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব পালনের মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।


