নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামের বালিয়াপাড়ায় একটি চারতলা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯জনকে আটকের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধরের খবর দেয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। দিনব্যাপী অভিযানে সদর থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও খেলায় ব্যবহৃত ১০টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাতিকাটার বালিয়াপাড়ায় প্রবাসী মিজানুর রহমানের চারতলা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব (পুকুরপাড়া) গ্রামের শেখ কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (২০) ও একই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৫); চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামের নাজের আলীর ছেলে জুয়েল রানা (২৬), শান্তিপাড়া গ্রামের আলী কদরের ছেলে রিফাত মুন্সি (১৯), হাতিকাটা গ্রামের মৃত আলীহিম জোয়াদ্দারের ছেলে ফরহাদ জোয়াদ্দার (২৯), আব্দুর রহমান জোয়াদ্দারের ছেলে সাদ জোয়াদ্দার আলভী (২৩), মৃত মুস্তাফিজুর রহমানের ছেলে খালিকুর রহমান বাঁধন (২৪) ও আমিন জোয়াদ্দারের ছেলে মাশরাফি জোয়াদ্দার নাফি (১৯)। অপরজন আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের সাগর আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম রকি (২৭)।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অনলাইন জুয়া খেলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আটকের পর তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুলিশের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানায়, আটক নয়জনের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে কয়েক মাস ধরে আয়না ঘরের আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা ও সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো। পুলিশের অভিযান ও মামলা দায়েরের পর হাতিকাটা এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


