নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশনের জন্য আদালতে পাঠানো হলে তাৎক্ষণিক বিচারে দুজনকেই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খাঁনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের সব ইউনিটে একযোগে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করেন সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকরাম খাঁন। সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে পৌর কলেজপাড়ার মুস্তাফিজুর রহমানের বসতবাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মুস্তাফিজুর রহমান (২১) মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পুলিশের সামনে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি পৌর কলেজপাড়ার মুকুল হোসেনের ছেলে। পরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশনের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ওই ধারার অপরাধে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই অনুজ কুমার সরকারের নেতৃত্বে আরেকটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সদর থানার দৌলতদিয়ার (চুনরিপাড়া) এলাকায় সেতু রহমানের বাড়ির সামনের সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, সেতু রহমান (৩০) মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি দৌলতদিয়ার (চুনরিপাড়া) গ্রামের আসাদুল হক মিন্টুর ছেলে। পরে সেতু রহমানকেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশনের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন, বিক্রি ও মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


