নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামে যৌতুকের দাবিতে ছবি খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছবি খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর তার স্বামী হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ডিঙ্গেদহ গ্রামের মৃত জলিল মঞ্জিলের ছেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ছবি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুনহা নামের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ছবি খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়ে আসছে। ছবি খাতুনের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল রবিবার বেলা একটার দিকে ডিঙ্গেদহ গ্রামে শ্বশুরবাড়ির সামনের রাস্তায় স্বামী হাবিবুর রহমান, তার বড় ভাই মৃত তালহার স্ত্রী মোস্তয়ারা বেগম এবং মৃত তালহার ছেলে মুকুল মিয়া তাকে পরিবারের কাছ থেকে যৌতুকের টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তার বড় বোন তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ছবি খাতুন।
ছবি খাতুন বলেন, যৌতুকের জন্য আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করেন। শুধু মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তিন বছর সংসার করেছি। আমার স্বামী কোনো কাজ করে না। আমার নিজের খরচও বাবার বাড়ি থেকে বহন করতে হয়। এরপরও প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়েছে। আর সহ্য করতে না পেরে এবার আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
ছবির বড় বোন ববি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার মা জমি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময় আরও টাকা দেয়া হয়েছে। এমনকি সংসারের বাজার-সদাইয়ের খরচও অনেক সময় আমাদের পরিবারকে বহন করতে হয়েছে। তারপরও আমার বোনের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ববি আক্তার আরও দাবি করেন, ছবি খাতুনের স্বামীর এর আগে আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল। আগের স্ত্রীদের সঙ্গেও দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের কারণে তার সংসার টেকেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা রুজুর পরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


