জীবননগর অফিস:
জীবননগরে সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক ও মানবিক সংস্থা ‘দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি’র চুয়াডাঙ্গা শাখার উদ্যোগে গতকাল রবিবার বিকেলে জীবননগর ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দরিদ্র মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান বলেন, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি যেভাবে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তায় এগিয়ে এসেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলো এভাবে হাত বাড়িয়ে দিলে কোনো মানুষ আর অনাহারে থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও চুয়াডাঙ্গার উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণে দোস্ত এইডের সহমর্মিতার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাফ্ফর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ এবং দীপ্ত টিভির সিনিয়র সাংবাদিক আদিব জামাল।
দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক সাব্বির সামি মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ হোসাইন আহম্মেদ। আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচির আওতায় জীবননগর এলাকার বহু দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসমৃদ্ধ ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ করা হয়। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি প্যাকেটে রাখা হয়েছে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, প্রয়োজনীয় মসলা, আলু, লবণ, চিনি, ছোলা, খেজুর ও মুড়িসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য।
সংস্থাটির নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক সাব্বির সামি মুহিত বলেন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাময়িক খাদ্যসংকট কিছুটা হলেও লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। মানবিক সহায়তার এ কার্যক্রম শুধু এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলার আরও প্রত্যন্ত এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
খাদ্যসহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের অনেকের কাছে এই খাদ্যপ্যাকেট ছিল নিত্যদিনের সংসারে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশা জানান তারা।


