জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বৈধ লাইসেন্স না থাকা এবং স্বাস্থ্যসেবার নির্ধারিত নিয়ম না মানার অভিযোগে ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ক্লিনিকের রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার সকালে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের চার দিন পর ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে শনিবার সকালে ক্লিনিকটির স্বাস্থ্যসেবার মান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ অনুমোদন যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু শর্তও মানা হচ্ছিল না। এ কারণে বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী ক্লিনিকটির মালিক সুজা উদ্দিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ক্লিনিকে থাকা রোগীদের দ্রুত ও নিরাপদে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।
এদিকে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে ক্লিনিকটির কোনো গাফিলতি বা অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কী-না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


