জীবননগর অফিস:
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে স্বামীকে তালাক দিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ধোপাখালি গ্রামের তরুণা খাতুন। তবে তালাকের পরও যেন পিছু ছাড়েনি নির্যাতন। সাবেক স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম, আমবাগান কেটে ফেলা, ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও মালামাল লুট এবং চুরি হওয়া ব্যাংকের চেক ব্যবহার করে ১৮ লাখ টাকার মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তরুণা ও তার পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা হয়রানি ও চাপের মধ্যে থাকলেও তারা প্রতিশোধ চান না বরং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা চান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে ধোপাখালি গ্রামের মৃত আব্দুল কালামের মেয়ে তরুণা খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের জমশের আলীর ছেলে সোহেলের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। তরুণার বিধবা মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন সোহেল। দীর্ঘদিনের এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় নয় বছর পর বাধ্য হয়ে তরুণা স্বামীকে তালাক দেন। পরিবারের অভিযোগ, তালাকের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তালাকের ক্ষোভে সোহেল তাদের প্রায় দেড় বিঘা জমির আমবাগান কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে যায়। পরে তারা জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, শাড়ি-কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তরুণার ভগ্নিপতির স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংকের চেকবইও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পরে ওই চেক ব্যবহার করেই তাঁদের বিরুদ্ধে ১৮ লাখ টাকার মামলা করা হয়। এর আগে বাড়িতে ঢুকে তরুণাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগও রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে। পরিবারের ভাষ্য, ওই হামলায় তরুণার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পরে চুরি হয়ে যাওয়া ওই চেকবই ব্যবহার করে তরুণার ভগ্নিপতিসহ দুজনের বিরুদ্ধে ১৮ লাখ টাকার একটি মামলা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার এটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করেছে।
তরুণার বিধবা মা অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে মেয়েদের বড় করেছি। জামাইয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে তালাক দিতে হয়েছিল। কিন্তু তালাকের পরও আমাদের ওপর নির্যাতন থামেনি। উল্টো চুরি করা চেক দিয়ে ১৮ লাখ টাকার ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমরা সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। পরিবারটির দাবি, ধারালো অস্ত্রের হামলা, আমবাগান কেটে ফেলা, ঘরে ঢুকে টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং চেক ব্যবহার করে মামলা করার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে হয়রানিমূলক মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের কারণে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপ নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রত্যাশা তাদের।


