উথলী প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর-দেহাটি সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় রাতের আঁধারে দুটি কলাবাগান থেকে প্রায় ৮৫ কাঁদি কলা চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই রাতে পৃথক দুটি বাগান থেকে কলার কাঁদি কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উথলী ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের কৃষক মিনারুল হকের সন্তোষপুর-দেহাটি সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে তার প্রায় ১২ কাঠা জমির ওপর কলাবাগান রয়েছে। ওই বাগানে প্রায় ২০০টি কলাগাছ ছিল। কৃষক মিনারুল হকের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তার কলাবাগানে প্রবেশ করে। পরে বাগানের বিভিন্ন গাছ থেকে পরিপক্ব কলার কাঁদি কেটে নিয়ে যায়। সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বেশ কয়েকটি গাছ থেকে কলার কাঁদি নেই। পরে বাগান ঘুরে প্রায় ৫০ কাঁদি কলা চুরি হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। মিনারুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে তিনি কলাবাগানটি পরিচর্যা করে আসছিলেন। ফলন ওঠার সময় এভাবে কলার কাঁদি চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি ঘটনার তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, প্রথম কলাবাগানটি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে পুলিশ ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের কৃষক রানার আরেকটি কলাবাগান রয়েছে। ওই বাগান থেকেও একই রাতে প্রায় ৩৫ কাঁদি কলা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাগান থেকেও কলার কাঁদি চুরি যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই রাতে কাছাকাছি দুটি কলাবাগান থেকে পরপর কলা চুরির ঘটনায় এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কৃষকেরা জানান, কলাবাগান থেকে ফলন পেতে দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে কৃষকদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলন আসার পর রাতের আঁধারে কলার কাঁদি চুরি হয়ে গেলে কৃষকদের সেই ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের বাগানগুলোতে রাতের বেলায় নিয়মিত নজরদারি না থাকায় চোরেরা সুযোগ নিতে পারে। তাই সন্তোষপুর-দেহাটি সড়ক ও আশপাশের কৃষিজমি এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী দুই কৃষক চুরির ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষকদের ফসল ও বাগানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন।


