আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশজীবননগরের সোনালি আঁশ ছাড়ানোর ধুম, চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

জীবননগরের সোনালি আঁশ ছাড়ানোর ধুম, চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি




জীবননগর অফিস:

ভোরের আলো ফুটতেই খাল-বিলের দিকে ছুটছেন কৃষকেরা। কেউ পানিতে নেমে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ জাগ দেয়া পাট থেকে সোনালি আঁশ তুলে ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে স্তূপ করে রাখা আঁশ রোদে শুকাতে ব্যস্ত। পাশাপাশি চলছে পাটখড়ি শুকানোর কাজও। পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘরের নারীরাও নেমেছেন পাট প্রক্রিয়াজাতের এই কর্মযজ্ঞে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার খাল-বিল, বাঁওড়, ডোবা ও পুকুরগুলোতে এখন এমনই ব্যস্ততা। মাঠ থেকে পাট কেটে জাগ দেয়ার পর চলছে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট জাগ দেওয়া নিয়ে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি কৃষকদের। ফলে ভালো ফলনের পাশাপাশি পাটের মানও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এর সঙ্গে বাজারে পাটের ভালো চাহিদা ও তুলনামূলক চড়া দাম কৃষকদের সেই স্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িরও ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে লাভের মুখ দেখার আশায় কৃষকেরা।
সরেজমিনে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই জলাশয়গুলোর পাড়ে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে পাটের আঁটি থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। কেউ সেই আঁশ ভালোভাবে ধুয়ে রোদে মেলে দিচ্ছেন। পাটখড়িগুলোও শুকানোর জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও জলাশয়ের পাড়েই ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হচ্ছে পাটখড়ি। সীমান্ত ইউনিয়নের পাটচাষি মসলেম উদ্দিন এবার আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাটের গাছ এবার বেশ লম্বা ও স্বাস্থ্যবান হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। মসলেম উদ্দিন বলেন, জলাশয়ে এবার পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। পাটের ফলন ও মান দুটোই ভালো হয়েছে। বর্তমান বাজারদর থাকলে এবার পাট থেকে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।
উথলী গ্রামের কৃষক আবু মিয়াও এবার পাটের ফলন ও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটখড়িরও চরম চাহিদা রয়েছে। আঁশ ছাড়ানোর পর বিল থেকেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের খরচে পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি আঁটি ৫০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশই উঠে আসছে।
স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটের রং, আঁশের উজ্জ্বলতা ও মান ভালো হলে মিলছে আরও বেশি দাম। ফলে ভালো মানের পাট উৎপাদনকারী কৃষকেরা তুলনামূলক বেশি লাভের আশা করছেন। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িও এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি আঁটি পাটখড়ি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষকের কাছ থেকে জলাশয়ের পাড় থেকেই ব্যবসায়ীরা পাটখড়ি কিনে নিচ্ছেন। এতে পাট উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয় কমে আসছে এবং কৃষকের নিট লাভও বাড়ছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগরের মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি পাট জাগ দেয়ার জন্যও কৃষকেরা পর্যাপ্ত পানি পেয়েছেন। ফলে জাগ দেয়া বা আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে বাজারে পাটের যে দাম রয়েছে, তাতে কৃষকেরা তাদের শ্রম ও উৎপাদন খরচের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। পাটখড়ির ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি সুবিধাও পাচ্ছেন।
কৃষকদের ভাষায়, পাট চাষে সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো এবার প্রকৃতি তাদের সহায় হয়েছে। মাঠে ফলন ভালো, জলাশয়ে জাগ দেয়ার মতো পানি আছে, আর বাজারেও রয়েছে চাহিদা ও ভালো দাম। সব মিলিয়ে জীবননগরের খাল-বিলজুড়ে এখন শুধু সোনালি আঁশ ছাড়ানোর ব্যস্ততা নয়, কৃষকের ঘরে সম্ভাব্য স্বচ্ছলতারও যেন আগাম বার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ