আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজজাতীয়তিন মানদণ্ডে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

তিন মানদণ্ডে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি




ঢাকা অফিস:

জনপ্রিয়তা, জনগ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এই তিন মানদণ্ডে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি। একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তত সপ্তাহে একদিন জেলা নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বরাবরই বলছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। দলীয় প্রতীকে আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন হবে না তাই দলের পক্ষে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারির কথা জানানো হচ্ছে। এদিকে দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহিষ্কার হয়েও ১৯০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। এবার দলীয় প্রতীকবিহীন এ নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির। তবে সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানামুখী কৌশল নেওয়া শুরু করেছে দলটি।
জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন, তা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি নির্বাচনে দল থেকে একজন একক প্রার্থী দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন তাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। তবে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে নির্বাচনি প্রস্তুতি নেবে- এটাই স্বাভাবিক।
বিএনপিসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে বিগত আন্দোলন ও সংগ্রামে রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দলের ত্যাগী নেতাদেরও মূল্যায়ন করা হবে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে। দেখা হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়। এসব কিছু যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করছে বিএনপি। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা সুবিধা নিচ্ছে তাদের বিষয়েও দল সতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনার সুযোগ হিসেবেও দেখছে বিএনপি। সূত্রটি জানায়, দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। এজন্য এসব নেতার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায় সেটা নিয়ে দল কাজ করছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থী ঠিক করার কাজ চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে যেসব দলীয় নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, এর মধ্যে থেকে কয়েকজন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা নির্ভর করবে তাদের কাজের ওপর। ইতিমধ্যে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তাদের কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যারা ভালো কাজ করবেন তাদের দল মূল্যায়ন করবে।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে রংপুর বিভাগসহ বেশ কয়েকটি জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দ্রুত দলের পুনর্গঠন কার্যক্রমে ইতি টানতে পরামর্শ দেন তারেক রহমান। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে দল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তি এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচন, কিন্তু দলের প্রার্থী যেহেতু থাকছেন সে বিষয়ে জেলা নেতারা তারেক রহমানের কাছে পরামর্শ চান। জবাবে বিএনপিপ্রধান বলেছেন, দল ও দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে ইতি টানতে বলেছেন। তবে তড়িঘড়ি করে আবার ভিন্ন দল কিংবা বিতর্কিতদের যেন অন্তর্ভুক্ত করা না হয় সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনাও দেন দলীয় প্রধান। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সামগ্রিক করণীয় কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দল গোছানোর কার্যক্রম শেষ করতে চাইছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও। তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে হলে নতুনভাবে দল গোছানোর বিকল্প নেই। কারণ তৃণমূলে বিএনপিকে পুনর্গঠন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র’ পর্যন্ত নতুন গতি আসবে এবং ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়াও শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে।
গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তারেক রহমান নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দলে নতুন গতি সঞ্চার করার ওপর জোর দিয়েছেন। তড়িঘড়ি করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করা। মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে নিয়ে আসতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় শুভেচ্ছা-সংবলিত পোস্টার-ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। সমাজ মাধ্যমেও প্রচারণা ও বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমর্থন পেতে অনেকেই জোর তদবির-লবিং শুরু করেছেন।
এদিকে, আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তারিখ বা সময়সূচি নিয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকেও আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে বলছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ আগস্ট পুলিশ মহাপরিদর্শক, ১৯ আগস্ট আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং সোমবার (২৪ আগস্ট) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার ভোট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। এর আগে বলা হয়েছিল, অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে আগস্টে তফসিল দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে ২৪ আগস্ট সিইসি জানিয়েছেন, এখনই ভোটের দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। নির্বাচন আয়োজনের সময় দুর্গাপূজা, বন্যার সম্ভাবনা, আবহাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সিইসি বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই ভোটের দিকে এগোতে চান তারা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আইন ও বিধিমালার কিছু সংশোধনের কাজ চলছে এবং সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণও স্পষ্ট করেছেন সিইসি। গত মে মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অতীতের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ ধরনের সহিংসতা বন্ধ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সিইসি আরও বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা কিছুটা বেশি। এ কারণে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে মোতায়েনের ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। ২৪ আগস্ট তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তার চেয়ে খারাপ হবে না, বরং আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে।
এই উদ্বেগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে পুলিশ প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে। ১৮ আগস্ট সিইসির সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদনও চেয়েছে কমিশন। পুলিশ পক্ষ থেকে দ্রুত সেই প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থাকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় মাঠপর্যবেক্ষণে কাজে লাগাতে চায় কমিশন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কতটা মোতায়েন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়েও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটের তফসিল ঘোষণার আগেই কোন এলাকায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে, তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছে কমিশন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের প্রস্তুতিকেও আগেভাগে সমন্বয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকেও একই ধরনের আগাম প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বিজিবিকে নির্বাচন সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ শুরু করার জন্য আগাম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিজিবির ওপর তুলনামূলকভাবে বড় দায়িত্ব পড়তে পারে। নির্বাচন যাতে সুন্দর, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এ বিষয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি অতীতেও দেখা গেছে। তাই ধাপে ধাপে ভোট আয়োজন করে প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কাজে লাগানোর চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারকে দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে আপাতত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। কিন্তু যদি এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যে সশস্ত্র বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে, তখন আমরা ভেবে দেখব।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আইন ও বিধিমালা সংশোধন। কমিশন পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনার বিধি নিয়ে কাজ করছে। আচরণবিধির খসড়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন পরিচালনার নিয়মও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন মিলিয়ে চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় নির্বাচন কমিশনের সামনে একসঙ্গে বড় ধরনের নির্বাচন আয়োজনের চাপ রয়েছে। এ কারণেই একদিনে সব ভোট না করে ধাপে ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকেও স্থানীয় সরকার ভোটের প্রস্তুতিতে কাজে লাগাতে চাইছে কমিশন। সিইসি সোমবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার নিচে নামতে চান না তারা। বরং আরও ভালো নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে অতীতের সংঘাতের ইতিহাস থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই কমিশনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
সব মিলিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকলেও নির্বাচন কমিশন বসে নেই। ভোটের সম্ভাব্য সময়, আইন ও বিধিমালা, আচরণবিধি, ভোটার তালিকা, মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে তারা। পুলিশের পর আনসার ও বিজিবিকে প্রস্তুতির বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, অক্টোবর থেকে ভোট শুরু করার সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই মাঠের নিরাপত্তা কাঠামো আগেভাগে গুছিয়ে নিতে চাইছে কমিশন। তবে চূড়ান্ত তফসিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণের আগে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। সরকার থেকে যখন বলা হবে, যেন আমরা নির্বাচনটা করে ফেলতে পারি। আমাদের ৪৫ দিন আগে জানালেই নির্বাচন করে ফেলতে পারব।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ