দর্শনা অফিস:
দামুড়হুদায় দর্শনা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও ইউনানি চিকিৎসক আব্দুল হান্নানকে (৩৮) পথরোধ করে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর এবং তার কাছে থাকা ৪২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার পুরাপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আব্দুল হান্নানের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা, রক্তাক্ত ও থেঁতলানো জখম হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে রাফিউল হোসেন (২৩), বগুড়া জেলার শিবগঞ্জের পানহাটা এলাকার মৃত ডালু ফকিরের ছেলে ও বর্তমানে গাড়াবাড়িয়া এলাকায় বসবাসকারী সাগর ফকির (৪০) এবং একই গ্রামের বাগানপাড়ার নিয়ত আলীর ছেলে মিষ্টার (২৮)।
আব্দুল হান্নান এজাহারে উল্লেখ করেন, তার দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে ‘হান্নান ফার্মেসি অ্যান্ড চেম্বার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি ইউনানি চিকিৎসক হিসেবে সেখানে চিকিৎসাসেবা দেন। তার চেম্বারে আলতা বানু (২৮) নামের এক নারী সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, আলতা বানুর সঙ্গে তার স্বামী ও অভিযুক্ত রাফিউল হোসেনের বাবা মজনু মিয়ার পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আলতা বানু মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলা করার জন্য আব্দুল হান্নান তাকে পরামর্শ দিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে মজনু মিয়া ও তার ছেলে রাফিউলসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুল হান্নানের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ১৭ আগস্ট ওই মামলার ধার্য তারিখ থাকায় মজনু মিয়া জামিনে মুক্তি পান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে একটার দিকে তিনি দর্শনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ওষুধ কেনার জন্য নিজের মোটরসাইকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের রূপছায়া সিনেমা হলের কাছে যান। কাজ শেষে দর্শনায় ফেরার পথে পুরাপাড়া এলাকায় ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের কাছাকাছি মহাসড়কে শহিদুল ইসলামের বাড়ির পাশে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। তার অভিযোগ, রাফিউল হোসেনের হাতে লম্বা করা যায় এমন লোহার স্টিক, সাগর ফকিরের হাতে লোহার রড এবং মিষ্টারের হাতে লোহার হাতুড়ি ছিল। তারা অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালান। রাফিউল হোসেন মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা ঠেকান। এতে তার মাথা ও বাম হাতের কনুই ও কবজির মাঝামাঝি অংশে জখম হয় বলে তিনি দাবি করেন। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, তিনি মাটিতে পড়ে গেলে রাফিউল ও সাগর লোহার রড দিয়ে তার মাথা, ঘাড়, বাম কাঁধ, বগলের নিচের অংশ ও পেটের বাম পাশে আঘাত করেন। মিষ্টার হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন এবং তার মোটরসাইকেলের ট্যাংকিতেও আঘাত করে ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আব্দুল হান্নানের দাবি, হামলার একপর্যায়ে রাফিউল তার শার্টের বুক পকেটে থাকা ওষুধ কেনার ৪২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেন। তার চিৎকার শুনে সঙ্গে থাকা সাংবাদিক নেতা আওয়াল হোসেন, স্থানীয় শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় তাকে আবারও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আব্দুল হান্নানকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা নেয়ার পর স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দীন বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


