দর্শনা অফিস:
দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে ওই দোকানে মাদক বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে একদিকে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সড়ক সংকুচিত হয়ে বাসস্ট্যান্ড ও চৌরাস্তা এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে পথচারীদের চলাচল এবং যাত্রী ওঠানামা করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দর্শনা পৌরসভার পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করে একাধিক ব্যক্তি ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় দখল আরও বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দর্শনা পৌরসভার পৌর প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাত ও সড়কের পাশের জায়গা বিভিন্নভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক পথচারী সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। একই সঙ্গে দোকানপাট ও বিভিন্ন যানবাহনের অবস্থানের কারণে ব্যস্ত এলাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দর্শনা বাসস্ট্যান্ড অত্যন্ত ব্যস্ত একটি এলাকা। এখানে বাস, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল রয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক সময় সড়কের ওপরই যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দর্শনা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস এবং দর্শনা রেল ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চৌরাস্তা এলাকায় ঘোরানোর সময় সমস্যায় পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। জায়গা সংকুচিত হওয়ায় বড় যানবাহনগুলো ঘোরানোর সময় কয়েক মিনিট পর্যন্ত সড়কে অবস্থান করতে হয়। এতে পেছনে থাকা যানবাহনের সারি দীর্ঘ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, ফুটপাত দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগের পাশাপাশি আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মিলন হোসেনকে ঘিরে মাদক ব্যবসার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের দাবি, আগেও একই এলাকায় দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
দর্শনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, মিলন একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আছে। পূর্বে একই স্থানে যখন তার দোকান ছিল, তখন দোকানের অন্তরালে মাদক ব্যবসা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা সেখানে এসে মাদক সেবন ও আড্ডা দিত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মিলনকে মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তিনবার আটক করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো নথি বা মামলার তথ্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। তার ভাইয়ের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন এলাকায় চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন হোসেন বলেন, আমার বিষয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই স্থানে সামান্য জমির মালিকানা থাকতে পারে। মালিকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই দোকান করেছি। মাদকসহ আটক ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কবে কী হয়েছে, ওই বিষয়ে এতদিন পর বলে লাভ কী?
দর্শনা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু নোটিশ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেই দায়িত্ব শেষ না করে ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড ও চৌরাস্তা এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


