দামুড়হুদা অফিস:
পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আরবি বই, মাদ্রাসার বই-খাতা ও কোরআনের আয়াত-সম্বলিত কাগজ পোড়ানোর অভিযোগ করেছেন বড় ভাই। এ ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যাগ পোড়াতে গিয়ে এর ভেতরে থাকা আরবি বইয়ের বিষয়ে তিনি জানতেন না। দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী রনি ও তার মা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোষাঘাটা গ্রামের আলীহীমের দুই ছেলে রনি ও জনি। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও নেশা করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগকারী রনির দাবি, তার ছোট ভাই জনি বিভিন্ন সময় তাদের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়াতেন এবং মারধরের হুমকি দিতেন। তার আচরণে বাড়িতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রনির অভিযোগ, তাকে ও তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার জন্যও জনি বিভিন্ন সময় পাঁয়তারা করছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নেশার টাকা চেয়ে জনি তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। অভিযোগে বলা হয়, মা গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে জনি একটি কুড়াল হাতে নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন। এ সময় তিনি কুড়াল দিয়ে কোপ দিলে সেটি মাটিতে লাগে। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে জনি তার নিজের ছয় বছর বয়সী মেয়ে জুঁই খাতুনের স্কুলব্যাগে থাকা বিভিন্ন বই-খাতা, মাদ্রাসার আইডি কার্ড ও আরবি বইসহ কোরআনের আয়াত-সম্বলিত কাগজে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন রনি। এ ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রনি ও তার মা দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই ব্যক্তি আপন ভাই এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি ব্যাগ পোড়ানোর সময় এর ভেতরে আরবি বই ছিল। তবে ওই ব্যক্তি ব্যাগের ভেতরে আরবি বই থাকার বিষয়টি জানতেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওসি বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


