কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা বাগানপাড়ার মঞ্জুরা খাতুন (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত। একদিকে মারণব্যাধির যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর অসহায়ত্বÑদুইয়ের টানাপোড়েনে থমকে গেছে তার বেঁচে থাকার লড়াই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশন প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা করাতে পারছেন না তিনি। মঞ্জুরা খাতুন হোগলডাঙ্গা বাগানপাড়ার মোবারক মিস্ত্রির মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটির সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে মঞ্জুরা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসার খরচ জোগাতে ইতোমধ্যে গরু-ছাগলসহ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করেছেন। চিকিৎসা চালিয়ে নিতে স্থানীয় মসজিদ ও গ্রামবাসীর কাছ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। তবু রোগের প্রকোপ কমেনি। পরিবারের ভাষ্য, বর্তমানে মঞ্জুরা খাতুনের শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত অপারেশন করা প্রয়োজন। কিন্তু অপারেশনের খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। ফলে চিকিৎসা করানো নিয়ে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে পরিবারটির। মঞ্জুরার পরিবারের সদস্যরা বলেন, নিজেদের যা ছিল, তা দিয়ে এত দিন চিকিৎসা চালানোর চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় মানুষও বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখন চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে একার পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত সহায়তা না পেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিবেশী আলামিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঞ্জুরার চিকিৎসার জন্য তারা বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে সহযোগিতা করেছেন। তবে রোগটি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। দ্রুত অপারেশন করানো না গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা অসহায় এই নারীর চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সম্মিলিত সহযোগিতায় মঞ্জুরার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, সামনে সরকারিভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ আসার কথা রয়েছে। মঞ্জুরা খাতুন আবেদন করলে বিষয়টি দেখা হবে।
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা মঞ্জুরার পরিবার এখন চিকিৎসার জন্য সহায়তার অপেক্ষায়। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে দ্রুত অপারেশন করিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলার আশা করছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।


