উথলী প্রতিনিধি:
জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামে মসজিদের সামনের সড়কে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও গরুর গোবরের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষার পানি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বর্জ্য ও গোবরের সঙ্গে মিশে নোংরা পানি সড়ক দিয়ে গড়িয়ে মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এতে মসজিদের পবিত্র পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি নামাজ আদায় ও চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন মুসল্লি ও পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একতারপুর গ্রামের মাসুম ও মমিন উভয়ের বাবা মহিউদ্দিন মধু এবং গহর আলীর ছেলে শাহজাহান আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ও গরুর গোবর ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের এক পাশে ধীরে ধীরে বড় একটি ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও। সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একতারপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন আশপাশের ২-৩ গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। মসজিদের সামনে বর্জ্যের স্তূপ থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তার পাশের ময়লা ও গোবর পানির স্রোতে ভেসে সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই নোংরা পানি মসজিদের দিকে গড়িয়ে গিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এতে মসজিদের মেঝে ও আশপাশের অংশ নোংরা হয়ে যায়। দুর্গন্ধের কারণে মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মসজিদের সামনে এমনভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে যে একটু বৃষ্টি হলেই নোংরা পানি মসজিদের ভেতরে ঢুকে যায়। মুসল্লিদের নামাজ পড়তে সমস্যা হয়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
শুধু মুসল্লিরাই নন, এই বর্জ্যের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীরাও। সড়কের ওপর কাদাপানি ও বর্জ্য ছড়িয়ে থাকায় পথ চলতে গিয়ে অনেককেই নোংরা পানি ও দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ময়লা-আবর্জনা ও গোবর জমে থাকার কারণে মশা-মাছি ও জীবাণুর বিস্তার ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বিষয়টি শুধু একটি সড়ক বা মসজিদের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িত। তাই দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ রাস্তার পাশে ময়লা ফেলতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি মসজিদসংলগ্ন সড়ক ও জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে।


