আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগফেসবুকে প্রেম, অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেয়ার অভিযোগ

ফেসবুকে প্রেম, অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেয়ার অভিযোগ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর (খালপাড়া) এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে একাধিক যুবকের কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তামান্না নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রীরামপুর গ্রামের রশিদুলের মেয়ে তামান্না বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবকদের সঙ্গে পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পড়াশোনার খরচ, কেনাকাটা, অসুস্থতা ও পারিবারিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেয়া হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এসব অর্থ বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলেও তারা জানান।
সম্প্রতি তিতুদহ গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী শাহজামালের সঙ্গে তামান্নার ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। শাহজামালের পক্ষ থেকে তামান্নাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় শাহজামালের বাবা আজিম আলী গত বুধবার আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার ছেলে শাহজামালের কাছ থেকে মোট ৪ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, এর আগে নিশান নামের এক যুবকের সঙ্গে তামান্নার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সম্পর্কের সূত্রে নিশানের কাছ থেকেও কয়েক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নিশানের মৃত্যু হয়। তবে নিশানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের দাবি রয়েছে। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি সড়ক দুর্ঘটনাÑএ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের নথিই নির্ভরযোগ্য। এ-সংক্রান্ত আদালত-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, নিশানের মৃত্যুর পর কুমারখালীর সোহাগ নামের আরেক যুবকের সঙ্গে তামান্নার সম্পর্ক ও কথিত বিয়ের বিষয়টিও সামনে আসে। এছাড়া হারদী ও যশোর এলাকার আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব যোগাযোগের ক্ষেত্রে একাধিক মোবাইল সিম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মতো যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে কোন অভিযোগের পেছনে বাস্তব ঘটনা রয়েছে আর কোনটি ভিত্তিহীনÑতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
তবে তামান্নার বাবা রশিদুল তার মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার মেয়েকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রশিদুল বলেন, আমার মেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের পর সুখে-শান্তিতে সংসার করছে। এর আগে আসাননগরে তার বিয়ে হয়েছিল। সে সময় আমি বিদেশে থাকায় অনেক বিষয় আমার সরাসরি জানা ছিল না। নিশানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিশানের অভিযোগ নিয়ে এর আগে গ্রামে ও থানায় একাধিকবার বসা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগকারীরা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো যাবে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ বা অপপ্রচার থাকলে তাও বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ