আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগবেঁধে দেয়া সময়ের পরও নির্ধারিত রঙে রাঙেনি অধিকাংশ ইজিবাইক

বেঁধে দেয়া সময়ের পরও নির্ধারিত রঙে রাঙেনি অধিকাংশ ইজিবাইক




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও পাখিভ্যানের চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নেয়া উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক নির্ধারিত রঙে ইজিবাইক রাঙানোর জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়া হলেও সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। কিন্তু শহরের সড়কে এখনো আগের মতোই চলছে অধিকাংশ ইজিবাইক। হাতে গোনা কয়েকটি ইজিবাইকে নির্ধারিত রঙ দেখা গেলেও অধিকাংশ গাড়িতেই প্রশাসনের বেঁধে দেয়া রঙের কোনো ছাপ নেই। প্রশাসনের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা শহরের সড়কে যানজট, যেখানে-সেখানে ইজিবাইক দাঁড় করানো এবং বেপরোয়া চলাচলের পুরোনো চিত্র খুব একটা বদলায়নি বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
গত ২৯ আগস্ট শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে বাস মালিক-শ্রমিক ও ইজিবাইক চালক সমিতির নেতাদের এক আলোচনা সভায় ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলার এক উপজেলার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক অন্য উপজেলায় চলাচল করতে পারবে না। পাশাপাশি সড়কে ইজিবাইক চিহ্নিত করা এবং চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক নির্দিষ্ট রঙ নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার ইজিবাইকের জন্য কমলা, পৌরসভা ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জন্য নীল, আলমডাঙ্গা উপজেলার জন্য সবুজ, দামুড়হুদা উপজেলার জন্য খয়েরি এবং জীবননগর উপজেলার জন্য হলুদ রঙ নির্ধারণ করা হয়। সভায় আরও বলা হয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে ইজিবাইকগুলো নির্ধারিত রঙে রাঙাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রঙ না করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও শহরের বাস্তব চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও পাখিভ্যান আগের মতোই চলাচল করছে। অনেক গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করছে, আবার কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য সড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও বাজার এলাকায় ইজিবাইকের এলোমেলো চলাচলে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শহরের সড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ ইজিবাইকে প্রশাসনের নির্ধারিত রঙ দেখা যায়নি। কয়েকটি গাড়িতে রঙ করা হলেও সেগুলো সংখ্যায় খুবই কম। ফলে কোন ইজিবাইক কোন এলাকার, তা দূর থেকে সহজে শনাক্ত করার যে উদ্দেশ্যে রঙের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, সেটিও অনেকাংশে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ইজিবাইক চালকদের নির্ধারিত রঙ করার বিষয়ে সচেতন করতে কয়েক দিন ধরে জেলা শহরে মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়েছে। এরপরও অধিকাংশ গাড়িতে নির্ধারিত রঙ না থাকায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজিবাইক চালক বলেন, গাড়িতে আলাদা করে রঙ করার বিষয়টি তার পছন্দ নয়। তার ভাষ্য, একই গাড়িতে নতুন করে রঙ করলে গাড়ির স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়। ভবিষ্যতে গাড়ি বিক্রি করার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আরেক চালক হামিদুর রহমান বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ইজিবাইকের দুই পাশে কমলা রঙ করেছেন। তবে তার প্রশ্ন, কিছুদিন পর যদি আবার আগের মতো এক উপজেলার ইজিবাইক অন্য উপজেলায় ঢুকে পড়ে, তাহলে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে। তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে রং করেছি। কিন্তু পরে যদি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তাহলে এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জেলা ইজিবাইক রিকশা ও পাখিভ্যান চালক ও মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা শহরের অধিকাংশ ইজিবাইকে রঙ করা হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক নির্ধারিত রঙ না করা কোনো ইজিবাইক চালকের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার জন্য কোনো সুপারিশ করা হবে না।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব ইজিবাইক চালক এখনো তাদের গাড়িতে নির্ধারিত রঙ করেননি, প্রাথমিকভাবে তাদের আইনের আওতায় এনে সচেতন করা হচ্ছে। এতে চালকেরা সাড়া দিচ্ছেন। ধীরে ধীরে ইজিবাইকগুলো নির্ধারিত রঙে রঙিন হবে বলে আশা করছেন তারা।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু ইজিবাইকে আলাদা রঙ দেয়া নয়, বরং কোন এলাকার ইজিবাইক কোথায় চলাচল করছে, তা সহজে শনাক্ত করা এবং এক উপজেলার ইজিবাইক অন্য উপজেলায় অবাধে চলাচল বন্ধ করা। এর মাধ্যমে শহরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমানোর পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাস-মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর ও বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কর্মসূচি পালন করে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকেই বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে ইজিবাইকসহ বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করেন। পরে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়। প্রশাসনের আশ্বাস এবং ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পর পাঁচটি রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহ পরও অধিকাংশ ইজিবাইকে নির্ধারিত রঙ না থাকায় এখন মূল প্রশ্নÑশুধু নির্দেশনা ও প্রচার-প্রচারণায় কি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে, নাকি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও কঠোর হতে হবে? এর উত্তর মিলবে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ