জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও গরুর গোবর ফেলার অভিযোগ নিছক একটি পরিচ্ছন্নতাজনিত সমস্যা নয়, এটি পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জনদুর্ভোগ এবং ধর্মীয় পবিত্রতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুতর বিষয়। বিশেষ করে মসজিদের সামনে যখন দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই সেই ময়লা-গোবর মিশ্রিত পানি মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন বিষয়টি আর উপেক্ষা করার সুযোগ থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকটি পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ও গোবর ফেলার কারণে সেখানে ধীরে ধীরে বড় ধরনের বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। তবে অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে একটি জনবহুল সড়কের পাশে, তাও একটি মসজিদের সামনে, কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এমন বর্জ্য ফেলার সুযোগ তৈরি হলো? সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় বর্ষাকালে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ময়লা ও গোবর মিশে সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে, পরে সেই দূষিত পানি মসজিদে ঢুকে পড়ছে। এতে মসজিদের পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি মুসল্লিদের নামাজ আদায়েও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদেরও দুর্গন্ধ, কাদাপানি ও বর্জ্যের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই একটি সভ্য ও সচেতন সমাজের চিত্র হতে পারে না। বর্জ্য জমে থাকার স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম নয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা আবর্জনা ও গোবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছি ও জীবাণুর বিস্তার ঘটতে পারে। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে দূষণের পরিধি আরও বাড়ে। ফলে একটি সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার অনিয়ম শেষ পর্যন্ত আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। এখানে ব্যক্তিগত অসচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। মানুষ যদি যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, অথচ তা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সমস্যা একদিনে দূর হওয়ার নয়। শুধু একবার ময়লার স্তূপ সরিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। ভবিষ্যতে যাতে সেখানে আবার বর্জ্য জমে না ওঠে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি তাই আমাদের স্পষ্ট আহ্বান বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক। একই সঙ্গে মসজিদসংলগ্ন সড়ক ও আশপাশে জমে থাকা সব বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয় এটি নাগরিক দায়িত্ব এবং জনস্বাস্থ্যের মৌলিক শর্ত। আর একটি মসজিদের সামনে এমনভাবে বর্জ্য ফেলে রাখা ধর্মীয় অনুভূতি ও পবিত্রতার প্রতিও চরম অবহেলা। তাই একতারপুরের এই সমস্যাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, স্থানীয় মানুষের সচেতনতা এবং নিয়মিত নজরদারিই পারে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান করতে। একতারপুরের মসজিদের সামনে ময়লার স্তূপ আর একদিনও থাকা উচিত নয়। এখনই ব্যবস্থা নেয়া হোক।


