নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নূরনগর গ্রামে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওপেন হাউস ডে, মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদকের ভয়াবহতা, মাদকাসক্তির সামাজিক ক্ষতি এবং মাদক নির্মূলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটায় সদর থানা পুলিশের উদ্যোগে নূরনগর গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ, জনসচেতনতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পুলিশ সুপার আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় মাদকের কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে সৃষ্ট নানা সমস্যা, মাদক কারবারের সামাজিক কুফল এবং মাদক প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, শুধু অভিযান ও শাস্তির মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ রহমান এবং পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও নূরনগর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক গোলাম মুজদা।
মতবিনিময় পর্বে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।


