আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজমতামতমাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, ডোপ টেস্টে অর্থসংকট

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, ডোপ টেস্টে অর্থসংকট




মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও মাদকপ্রবণ অঞ্চলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, সন্দেহভাজনদের আটক এবং ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টি শনাক্ত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই কার্যক্রমের একটি মৌলিক দুর্বলতা যখন সামনে আসেÑডোপ টেস্টের ৯৫০ টাকা পর্যন্ত খরচও যদি পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত পকেট থেকে দিতে হয়Ñতখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি। ঝিনাইদহে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, মাদকবিরোধী অভিযানের পরিধি কতটা বেড়েছে। চলতি বছরের ১৪ জুলাই থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪ দিনে জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখায় সামারী ট্রায়ালে ১৭৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি হয়েছেন ২২২ জন। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই হয়েছে ১২৭টি মামলা, আসামি হয়েছেন ১৫৮ জন। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে শৈলকুপা থানায়Ñ৭৮টি মামলায় আসামি হয়েছেন ৮৫ জন। অর্থাৎ অভিযান যে কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো কার্যক্রম নয়, বরং নিয়মিত ও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, তা স্পষ্ট। এই অভিযানে ডোপ টেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণভিত্তিক ধাপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। কাউকে আটকের পর হাসপাতালে নেয়া, নমুনা সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার ফি পরিশোধÑসবই সময় ও অর্থসাপেক্ষ কাজ। কিন্তু এই পরীক্ষার জন্য যদি নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ না থাকে এবং শেষ পর্যন্ত থানার ওসি বা অভিযানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে নিজের পকেট থেকে অর্থ দিতে হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা হতে পারে না। দুই-একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৯৫০ টাকা হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু নিয়মিত অভিযানে একাধিক ব্যক্তির ডোপ টেস্ট প্রয়োজন হলে মাস শেষে সেই ব্যয় একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য যথেষ্ট বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑআইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সরকারি কর্মচারীকে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কতটা যুক্তিসংগত, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফান্ড থেকে এই অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের সদস্যদের বক্তব্যে অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উঠে এসেছে। কোনো সরকারি দায়িত্বের আনুষঙ্গিক ব্যয় যদি আগে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয় এবং পরে ফেরতের অপেক্ষায় থাকতে হয়, তাহলে সেখানে স্বচ্ছ, দ্রুত ও নির্দিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যে অভিযানকে দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে সাময়িক বা ব্যক্তিনির্ভর অর্থায়ন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। শৈলকুপায় ‘আগামীর শৈলকুপা’ নামের একটি সংগঠন ডোপ টেস্টের খরচ বহনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস এসেছে। এমন উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে মাদকবিরোধী অভিযানের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের একটি অপরিহার্য ধাপ বেসরকারি ব্যক্তি বা সংগঠনের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা উচিত নয়। এতে একদিকে অর্থায়নের ধারাবাহিকতা অনিশ্চিত থাকে, অন্যদিকে সরকারি কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান যথার্থই বলেছেন, ডোপ টেস্ট চালু হওয়ার পর মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের মধ্যে প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিটি পরীক্ষায় ৯৫০ টাকা খরচ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের অর্থে এই ব্যয় বহন করা কষ্টকর হবে। তার পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। এখন প্রয়োজন কথার পর বাস্তব উদ্যোগ। ডোপ টেস্টের জন্য আলাদা সরকারি বাজেট বরাদ্দ করা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত ব্যবস্থায় বিনামূল্যে বা সরকারি খরচে এসব পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরীক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় অনুমোদন, পরিশোধ ও পুনর্ভরণের জন্য নির্দিষ্ট ও সহজ প্রক্রিয়া থাকা দরকার। এতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আর্থিক চাপ কমবে এবং অভিযান পরিচালনায়ও প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস পাবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু গ্রেপ্তার ও মামলা করার বিষয় নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনস্বাস্থ্য, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, পরিবার ও সামাজিক নিরাপত্তা। ফলে মাদকবিরোধী অভিযান হতে হবে আইনগতভাবে যথাযথ, তথ্যভিত্তিক এবং টেকসই। ডোপ টেস্ট যদি সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়, তবে এর ব্যয়ভারও রাষ্ট্রকেই সুসংগঠিতভাবে বহন করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা যখন বাড়ছে, তখন অর্থসংকটের কারণে সেই তৎপরতার কোনো ধাপ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। সাময়িক সহযোগিতা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়ন, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি। মাদকবিরোধী লড়াইকে কার্যকর করতে হলে শুধু অভিযান বাড়ালেই হবে নাÑঅভিযানের প্রতিটি প্রয়োজনীয় ধাপকে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার আওতায় আনতে হবে। ডোপ টেস্টের ৯৫০ টাকা যেন কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত বোঝা না হয়, বরং এটি যেন মাদকবিরোধী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক ও নিশ্চিত ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়Ñএখন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ