নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেহেরপুর সদর উপজেলার ইসলাম নগরে জামাতার কুড়ালের কোপে শাশুড়ী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক স্ত্রীকেও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের ইসলাম নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত বিউটি খাতুন (৪৪) ইসলাম নগর দক্ষিণ পাড়ার সোলেমান মিয়ার স্ত্রী এবং ছপুরা খাতুন (২০) তাদের কন্যা। অন্যদিকে, মৃত আমির হোসেনের ছেলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম (৫২)। তার দুই ছেলে মাহমুদ (৩৭) ও রামিম (২২)। সকলেই ইসলাম নগর দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা। এর মধ্যে মাহমুদ ছিলেন ছপুরা খাতুনের সাবেক স্বামী।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ৭ বছর আগে সোলেমান মিয়ার মেয়ে ছপুরা খাতুনের সঙ্গে একই পাড়ার শহিদুলের ছেলে মাহমুদের সাথে বিবাহ হয়। তাদের সংসারে ৫ বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও বিভিন্ম অযুহাতে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, মাহমুদ নিয়মিত মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। এ কারণে একাধিকবার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ছপুরা। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উভয়পক্ষের বসাবসিতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়।
আহত ছপুরা খাতুন বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকেই মাহমুদ ও তার ভাই রামিম আমাদেরকে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। তারা আমাদেরকে খুন করার হুমকি দেয় এবং তারা বাড়িতে এসে পরিকল্পনা আটতে থাকে। পরিশেষে আজ (সোমবার) সকাল ১১ টার দিকে তাদের পরিবারের সকলে মিলে পরিকল্পিতভাবে কুড়াল, হাসুয়া ও দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে আক্রমণ করে।
আহত বিউটি খাতুন বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের বাড়িতে এসে আমার ঘরে থাকা স্বামীকে বাইরে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় যাতে করে আমার স্বামী প্রতিরোধ করতে না পারে। এবং আমাকে ও আমার মেয়েকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাকে তাড়িয়ে কুড়াল দিয়ে কোপ মারলে আমি মাটিতে পড়ে যায়। অবশেষে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিউটি খাতুনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মামলার এজাহার এখনো আমি হাতে পায়নি। পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


