নিজস্ব প্রতিবেদক:
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সাহিত্য পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে এটি ডিসি কোর্ট, কোর্ট মোড় ও পায়রা চত্বর ক্রসিং হয়ে পুনরায় সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় মহিলা দলের নেত্রী-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে সাহিত্য পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রীনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, মহিলা দল বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী সহযোগী সংগঠন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পর্যায়ে নারী নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও সংগঠনের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলেই সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে না, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেত্রীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিএনপির আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে তরুণীদের এগিয়ে আনতে হবে। পারস্পরিক বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে চুয়াডাঙ্গায় মহিলা দল আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে পারবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম পিটু ও খালিদ মাহমুদ মিল্টন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল আলম বিলাস, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান ও সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা আনোয়ার হোসেন, সদস্য সচিব হাফেজ মওলানা মাহাবুল হক, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি তেজেরা বেগম, আলমডাঙ্গা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রিফাত সুলতানা বন্নী এবং দর্শনা থানা মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর বেগম। সভায় জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর শেফালী বেগম, যুগ্ম সম্পাদক সালমা জাহান পারুল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরীন পারভীন, মহিলা দলের নেত্রী রহিম বেগম ও ফেরদৌস লাকীসহ জেলা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মেহেরপুরে আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌরসভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক লাইলা আঞ্জুমান্দ বানু এবং সঞ্চালনা করেন গাংনী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা পারভীন। এর আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। আনন্দ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে শেষ হয়। সকাল আটটার দিকে জেলা বিএনপির অফিস কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসান ও মহিলা দলের সভানেত্রীরা।
সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিলা দলের উপদেষ্টা রোমানা আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনছারুল হক, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সাবিহা সুলতানা, নাজমা খন্দকার, সদর উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খালেদা ইয়াসমিন, জেলা মহিলা দলের ব্যাংক ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক নাজমুন নাহার রিনা।
আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মহিলাদের ভূমিকা ও অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


