নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন রেলপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহানারা (৫০) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। নিহত জাহানারা চুয়াডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ার জামাল শেখের স্ত্রী। স্বামীকে নিয়ে প্রায় আট মাস ধরে রেলপাড়া এলাকার তৌফিকুল ইসলাম জোয়ার্দারের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন তিনি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে জাহানারা তার বসতঘরে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
জাহানারার স্বামী জামাল শেখ বলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে পিত্তথলি, লিভার ও পাকস্থলীর সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এসব অসুস্থতার কারণে এ পর্যন্ত তার শরীরে পাঁচবার অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও শারীরিক কষ্টে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই যন্ত্রণা থেকেই জাহানারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করেন তার স্বামী।
তবে ঘটনাটিকে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে না পুলিশ। পুলিশ বলছে, জাহানারার শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি পুত্রবধূর সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল। এ কারণে তার মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের ভাইদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তাই মরদেহের ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মারুফ রহমান বলেন, তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এছাড়া পুত্রবধূর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। নিহতের ভাইদের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ করায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাহানারার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


