নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সরকারি কোয়ার্টারে ঢুকে এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর স্ত্রী ও তার শিশুকন্যাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। হামলার সময় মা-মেয়ের চিৎকার শুনে কোয়ার্টারের অন্য বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ওই নারীকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। হামলায় আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সরকারি কোয়ার্টারে উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম ফেরদৌসের বাসায় হঠাৎ প্রবেশ করেন রাফিয়া নামের ওই নারী। বাসার ভেতরে ঢোকার পর একপর্যায়ে তিনি ধারালো দেশীয় অস্ত্র বের করেন। এরপর শামীম ফেরদৌসের স্ত্রী শরিফা আক্তার ও তার শিশুকন্যার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারী ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। হামলার আকস্মিকতায় মা-মেয়ে চিৎকার শুরু করলে তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও সরকারি কোয়ার্টারের অন্য বাসিন্দারা দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত নারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাফিয়াকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ জানায়, আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার কারণ, লুটচেষ্টার অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি নাÑএসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে কী কারণে ওই নারী সরকারি কোয়ার্টারে প্রবেশ করেছিলেন এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা ও লুটের চেষ্টা করা হয়েছিল কী না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।


