জীবননগর অফিস:
ভরা মৌসুম। বাজারে বেড়েছে রুপালি ইলিশের সরবরাহ। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সবচেয়ে বড় শিয়ালমারি মাছ বাজারে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বরফের ওপর সারি সারি ইলিশ সাজিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর ও বরিশাল থেকে আসা বিভিন্ন আকারের ইলিশে বাজার যেন রুপালি হয়ে উঠেছে। সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি ফেরার কথা ক্রেতাদের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ইলিশের দাম এখনো অনেকটা চড়া। ফলে ভরা মৌসুমেও জাতীয় মাছটি স্বল্প ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শিয়ালমারি মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বেশ বেড়েছে। বাজারের বিভিন্ন মাছের দোকানে অন্যান্য মাছের পাশাপাশি বরফের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইলিশ। বড় থেকে ছোট বিভিন্ন আকারের ইলিশ সাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। অন্য মাছের দোকানের তুলনায় ইলিশের দোকানগুলোতেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। তবে ইলিশের দোকানে ভিড় থাকলেও দাম শুনে অনেক ক্রেতাকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। বাজারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি এবং প্রায় ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা।
তাদের ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বৃহস্পতিবার বাজারে ইলিশের আমদানি অনেক বেশি। বিশেষ করে চাঁদপুর ও বরিশালের ইলিশের সরবরাহও বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে দাম কমেনি।
ক্রেতারা জানান, বাজারে আজ ইলিশ অনেক দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দাম শুনলে কেনার ইচ্ছাটাই চলে যায়। ছোট সাইজের চারটি ইলিশ কিনতেই প্রায় ১ হাজার টাকা লাগছে। বড় ইলিশের তো বাজারে হাতই দেয়া যাচ্ছে না। দাম যেন আগুন। ভরা মৌসুমে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকার পরও যদি দাম এতটা চড়া থাকে, তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা কঠিন। মাসের বাজার খরচ সামলে ইলিশ কেনা এখন অনেক পরিবারের জন্য বিলাসিতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইলিশ বিক্রেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, তারা আড়ত থেকে যে দামে মাছ কিনছেন, তার সঙ্গে সীমিত লাভ যোগ করেই বিক্রি করছেন। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে আড়তগুলোতে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে বাজারে আমদানিও বেশি। তবে বড় আকারের ইলিশের চাহিদা তুলনামূলক কম। ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
এক বিক্রেতা বলেন, সকালে বেচাকেনা কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর ক্রেতা বাড়ে। বাজারে আসা মাছগুলো বরফের নিচে সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে। ফলে দিনের সব মাছ বিক্রি না হলেও ব্যবসায়ীদের খুব বেশি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ বাড়ার পরও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে না আসার পেছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা রয়েছে।
তাদের দাবি, উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক হাত বদলের কারণে দাম বেড়ে যায়। কেউ কেউ বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তুলেছেন। ক্রেতাদের দাবি, ইলিশের সরবরাহ ও দামের ওপর নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের পার্থক্য এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজার মনিটরিং জোরদার করে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো গেলে ভরা মৌসুমে সাধারণ মানুষও কিছুটা স্বস্তিতে ইলিশ কিনতে পারবেন। ভরা মৌসুমে শিয়ালমারি বাজারে ইলিশের এমন প্রাচুর্য ক্রেতাদের চোখে স্বস্তির ছবি আঁকলেও দামের কাছে এসে সেই স্বস্তি যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বরফের ওপর রুপালি ইলিশের সারি থাকলেও দাম নাগালের বাইরে থাকায় অনেকেরই ইলিশ কেনার সাধ অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।


