দামুড়হুদা অফিস:
প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পর অবশেষে সংস্কারের ছোঁয়া লেগেছে সীমান্তবর্তী দর্শনা পৌরসভায়। মাত্র ৮ মাসের কর্মকালে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পৌর প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ২ মাস দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং কয়েক দফায় জীবননগর উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত দর্শনা পৌরসভার নিজস্ব কোনো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছিল না। প্রশাসক শাহিন আলমের উদ্যোগে সম্প্রতি পৌরসভার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ডাম্পিং স্টেশন না থাকা। বিগত কয়েক দশক ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্র রেলগেট এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে একটি বিশাল ভাগাড় তৈরি করা হয়েছিল। যা ছিল জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ। সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সেই ঐতিহাসিক ভাগাড় সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের পাশে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিনি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন। পৌরসভার কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার বকেয়া ৬০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা পূর্বে কখনো হয়নি। মানবিক সহায়তা হিসেবে অনুদান ও সহায়তা খাতে ৩ লক্ষাধিক টাকা বিতরণ করেছেন তিনি। অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, মশক নিধন কার্যক্রম, হাম টিকা প্রদান ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পড়াশোনা ও খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ এ দর্শনা পৌরসভার ক্রীড়াবিদরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রভূত সাফল্য অর্জন করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি মাদক, ভেজাল খাবার, অবৈধ মাটি কাটা, সার ও তেল মজুদ, অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেড় শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, তার নেতৃত্বে ছঠাংগা মাঠে অবৈধ মাটি কাটা প্রতিরোধে এক যুগ পর অভিযান পরিচালিত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভূমি প্রশাসনেও তিনি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ই-নামজারি সূচকে দামুড়হুদা উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদাহে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছেন। মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে সম্প্রতি কার্পাসডাঙ্গা আশ্রয়ন থেকে কয়েক বছর ধরে বিতাড়িত এক অসহায় নারীর ঘর উদ্ধার করে তাকে পুনর্বাসন করেছেন। এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ ও পুরাতন ভবন সংস্কার করা হয়েছে তার তত্ত্বাবধানে।
এ প্রসঙ্গে প্রশাসক শাহিন আলম বলেন, দায়িত্বের পরিসর ও কর্মঘণ্টা হিসেবে দামুড়হুদা অদ্যাবধি সবচাইতে কর্মবহুল স্টেশন। কর্কটক্রান্তি রেখার নিচে অবস্থিত এ জনপদের জন্য স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের কিছু ছাপ রেখে যেতে চাই।


