দামুড়হুদা অফিস:
শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরে দামুড়হুদায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’র সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং মাতৃদুগ্ধ পানের সুফল সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এবারের বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান।’ জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মহিব্বুল্লাহ, এমওডিসি ডা. আলমগীর হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ফাহমিদা রহমান, দামুড়হুদা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুতুব উদ্দিন, দামুড়হুদা মডেল থানার প্রতিনিধি সাব-ইন্সপেক্টর সেলিম উদ্দিন এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী। এছাড়া অনুষ্ঠানে এমটিইপিআই এ এস এম ফারুক আহমেদ, প্রধান সহকারী হাসান আহমেদ, পরিসংখ্যানবিদ শাহাজাহান আলী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিশুর জীবনের শুরুতেই মায়ের দুধ তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় খাবার। মাতৃদুগ্ধ শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে পরিবারকে সচেতন করা জরুরি। তারা আরও বলেন, শুধু মায়েদের সচেতন করলেই হবে না; শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাতৃদুগ্ধ পানের বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করে মায়েদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে শিশুর পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।


