নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক ও ওষুধ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত বুধবার দিনভর এবং বৃহস্পতিবার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)’র বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা এসব অভিযান চালান। এ সময় ১৮৬ বোতল ভারতীয় সিরাপ, ৮৯ বোতল ভারতীয় মদ, ১২ কেজি গাঁজা ও ২ হাজার ৮২০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে নিমতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ৭৫/২-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মাঠের কাঁচা রাস্তায় নায়েক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এর প্রায় ৫০ মিনিট পর রাত সাড়ে আটটার দিকে পলিয়ানপুর বিওপির সদস্যরা আরেকটি অভিযান চালান। সীমান্ত পিলার ৫৯/৬-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উজ্জল মিয়ার আমবাগানে নায়েব সুবেদার রমজান আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬৪ বোতল ভারতীয় সিরাপ ও ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই রাতে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজাপুর বিওপির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৮৯ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন। সীমান্ত পিলার ৭২/১-এস থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানিকপুর গ্রামের সুমনের পেয়ারা বাগানের পাশ থেকে নায়েব সুবেদার আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেদিনীপুর বিওপির সদস্যরা আরেকটি অভিযান চালান। সীমান্ত পিলার ৬৩/১-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হরিহরনগর গ্রামের বিল্লাল মন্ডলের আমবাগানে হাবিলদার জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮০ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে উথলী বিওপির সদস্যরা চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করেন। সীমান্ত পিলার ৭২/১-এস থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্তোষপুর গ্রামের একটি পাকা সড়কের পাশ থেকে হাবিলদার ইছাব্বর আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ২ হাজার ৮২০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা মাদক ও ওষুধের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)’র সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।


