গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনীতে সড়কের ওপর গাছ ফেলে একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল মুখোশধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের ও শিশুদের ভয় দেখিয়ে লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ওই সড়কে রাতে চলাচলকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের কামারখালী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম বলেন, তারা কুষ্টিয়া থেকে এক রোগীকে দেখে মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। কামারখালী সড়কে পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা সড়কের ওপর গাছ ফেলে তাদের মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে। এরপর কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি গাড়ির কাছে এসে যাত্রীদের ঘিরে ফেলেন। কামরুল ইসলামের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার ও গাড়িতে থাকা শিশুদের গলায় হাঁসুয়া ঠেকিয়ে ভয় দেখান। কথা বললে জবাই করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। এরপর যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়া হয়। তবে মোবাইল ফোনগুলো তারা নিয়ে যায়নি। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তদের কাছে হাঁসুয়া, রামদা ও তলোয়ার ছিল। তার কাছে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা না নেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও সেটিও নিয়ে যায় তারা।
আরেক ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী বলেন, কুষ্টিয়া থেকে রোগী দেখে বাড়ি ফেরার পথে কামারখালী সড়কে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা মাইক্রোবাসটি ঘিরে ফেলে। পরে গাড়ির লাইট বন্ধ করে দিয়ে তারা ভয় দেখাতে থাকেন। ইদ্রিস আলীর দাবি, দুর্বৃত্তরা বলেন, বেশি নড়াচড়া করলে গাড়ির ভেতরে বোমা মেরে দেয়া হবে। তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়ার পর গাড়িতে থাকা নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে গাড়ির চাবি ফেরত দিয়ে লাইট বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। তিনি জানান, ওই মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কামারখালী সড়কে এর আগেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, সড়কটিতে নিয়মিত পুলিশের টহল জোরদার করা না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কামারখালী সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা লোকজনের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ছিনতাই চক্রের সদস্যদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


