জীবননগর অফিস:
জীবননগরের প্রবাসী নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা নেয়া, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা এবং পরে প্রবাসীদের কফিলের (নিয়োগকর্তা) কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। নাজমুলের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়া জীবননগরের ওমি ও আরিফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে নাজমুলের পরিবার। তাদের দাবি, পাওনা টাকা পরিশোধ না করার বিষয়কে কেন্দ্র করে নাজমুলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
গতকাল বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুলের চাচা রেজাউল হোসেন বলেন, তার ভাতিজার মাধ্যমে জীবননগরের আরিফ, ওমি, মিরাজ ও সুজনসহ কয়েকজন সৌদি আরবে গেছেন। তাদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নাজমুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। রেজাউল হোসেনের ভাষ্য, সৌদি আরবে গিয়ে আরিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে নাজমুল নিজ উদ্যোগে তার টিকিটের ব্যবস্থা করে দেশে ফেরত পাঠান। আর ওমি সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে গাড়ির লাইসেন্স করতে না পেরে নিজেই মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্যত্র চলে যান। তার কাছে নাজমুলের প্রায় দুই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলেও দাবি করেন রেজাউল।
অন্যদিকে ওমির পরিবারের অভিযোগ, দুবাইয়ে থাকা অবস্থায় বেশি বেতন ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে সৌদি আরবে নেয়া হয়। কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পর পাঁচ মাস পার হলেও তাকে প্রতিশ্রুত চাকরি দেয়া হয়নি। পরিবারটির দাবি, পরে নাজমুল ওমিকে একটি কোম্পানির কাছে ৯ হাজার সৌদি রিয়ালে হস্তান্তর করেন। ওই কোম্পানিতে চালকের কাজ করার সময় ওমি বেতন চাইলে কফিল তাকে জানান, নাজমুলের কাছ থেকে তাকে ৯ হাজার রিয়ালে নেয়া হয়েছে। ওই অর্থ পরিশোধের পরই তাকে বেতন দেয়া হবে বলে কফিল জানান। ওমির পরিবারের আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে খাবার ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের খরচের কথা বলে দেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নেয়া হয়। একপর্যায়ে ওমিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নাজমুল সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
নাজমুলের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়া জীবননগরের পুরাতন তেতুলিয়া গ্রামের আরিফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ছয় লাখ টাকা দিয়ে নাজমুলের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার পর আরিফ প্রায় তিন মাস মানবেতর জীবনযাপন করেন। সৌদি যাওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা নাজমুল নিয়ে সৌদি রিয়ালে রূপান্তর করে দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে ওই টাকা ফেরত দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। আরিফের দাবি, জীবননগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নাজমুলের মাধ্যমে আরও অনেকে সৌদি আরবে গেছেন। তাদের অনেকেই একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন বলে তিনি জানান।
নাজমুলের মা বলেন, তার ছেলে জীবননগরের কয়েকজনকে বিদেশে নিয়েছেন। কারও কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে নাজমুল তাকে জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল হোসেন অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য যাচাই না করে নাজমুলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।


