গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনীতে বাসস্ট্যান্ড ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে মোট পাঁচটি শক্তিশালী টাইম বোমাসাদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটেছে। গতকাল রবিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বিকট শব্দে পুরো গাংনীজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গাংনী বাসস্ট্যান্ডের হারুন বস্ত্রালয় ও হাসানের চায়ের দোকানের মধ্যবর্তী স্থানে দেবদারু গাছের নিচে বিস্ফোরণটি ঘটে। ওই সময় গাংনী বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মরহুম রফিকুল ইসলামের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য সেখানে বহু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা জমায়েত হয়েছিলেন। এ জনসমাগমের মধ্যেই দেবদারু গাছ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত জনতা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে গাংনী বাজারের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন শাওন জানান, জনসমাগমের মধ্যে আচমকা বিস্ফোরণটি ঘটলেও ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এলাকা জুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণ শেষে গাছের নিচে সার্কিট ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি টাইম বোমাসাদৃশ বস্তুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি এ ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। একই সময়ে বাঁশবাড়িয়া আনসার ভিডিপি ক্লাবের সামনে আরও দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গাংনী বাজারের বোমা বিস্ফোরণের স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়। আর বাঁশবাড়িয়ার বিস্ফোরণস্থলের পাশেই বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডাম সুমন জানান, রবিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ছিলো। এ কারণে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের কাছাকাছি একটি চায়ের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে দুটি টাইম বোমা বিস্ফোরিত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিএনপির কর্মসূচি বানচাল করার জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাদের ধারণা, বিস্ফোরণস্থলের একটি গাছের মধ্যে টাইম বোমা রাখা হয়েছিল। গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার আমাদের অনুষ্ঠান ছিলো। আমরা বিএনপি কার্যালয়েই বসে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে টাইম বোমা বিস্ফোরিত হয়। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি দুটি টিনের টুকরা ও ব্যাটারি পড়ে রয়েছে। আমাদের অনুষ্ঠান বানচাল করার জন্য কে বা কারা এগুলো রেখে গেছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত জব্দ করেছে। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সার্কিটসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কারা এবং কী উদ্দেশে এই আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, তা অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।


