আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগ‘চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও দক্ষ মানবসম্পদে জোর দিলে আমদানি নির্ভরতা কমবে’

চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও সরকারি দপ্তর প্রধানদের সাথে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী-

‘চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও দক্ষ মানবসম্পদে জোর দিলে আমদানি নির্ভরতা কমবে’




নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির পাশাপাশি আরও বৃহৎ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোর ইশতেহারের প্রতি সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছে। তবে শুধু যারা ভোট দিয়ে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতিই নয়, দেশের সব মানুষের প্রতিই সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত প্রাচীন। সোমপুর বিহার ও ময়নামতির শিলালিপি দেশের সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে। হাজার হাজার বছর আগে নারীরা কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছিলেন। অথচ দীর্ঘকাল ধরে সমাজে নারীদের অবহেলা করা হয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোয় নারীদের অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার নারীর জাগরণ ও ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের সব নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে তাদের স্বাবলম্বী করার একটি বৃহৎ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। কৃষির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উর্বর ভূমির এক অপার সম্ভাবনার দেশ। জাপানে মাত্র ১২ শতাংশ এবং উত্তর কোরিয়ায় ১৪ শতাংশ চাষযোগ্য জমি রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জমি চাষযোগ্য। এত বিপুল কৃষিসম্পদ থাকার পরও বাংলাদেশকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে হয়। কৃষকেরা যদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের দক্ষ শ্রমিকেরা বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছেন। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারলে দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসন-৫’র সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এর সূচনা অনেক সময় বিড়ি বা সিগারেটের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে হয়। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, নারী নির্যাতনসহ সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও সরকারি সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও তার দায়িত্বের আওতায় রয়েছে। মন্ত্রী সব সময় সময় দিতে না পারলেও তিনি নিয়মিত চুয়াডাঙ্গায় এসে জেলার মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানান।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেসব পদের তথ্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জানাতে হবে। এরপর মন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, মৎস্য ও হাসপাতালগুলোতে জনবল ও চিকিৎসকের যে সংকট রয়েছে, তা সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, জেলার যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনের মাধ্যমে জানালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। জেলার যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদক মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অল্প পরিমাণ মাদকসহ কাউকে আটক করা হলে সাধারণত অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয় না। তবে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানোর প্রয়োজন হয়। বর্তমানে জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপকসংখ্যক আসামিকে আটক করছে এবং তাদের সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা চুয়াডাঙ্গায় সিজিএম কোর্টের নিজস্ব ভবন না থাকা, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংকট, অডিটোরিয়ামের প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন সমস্যা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মনোযোগ দিয়ে এসব সমস্যা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম ও সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক সামসুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু ও খালিদ মাহমুদ মিল্টনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ