পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান
উথলী প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জীবননগরের সন্তোষপুর বাসস্ট্যান্ডে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সবুজায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে একতারপুর গ্রামের রাস্তার মোড় পর্যন্ত এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইফতেখার রহমান বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য যে পরিমাণ বনভূমি প্রয়োজন, বর্তমানে তা নেই। বনভূমি কমে যাওয়ার কারণে পরিবেশ নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। এ বাস্তবতায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারা যেন ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সেই প্রত্যাশা করছি। তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার একটি দায়িত্ব। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি এবং বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবিব শিপলু। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, সড়কের পাশ, বিল-বাওড় এবং পতিত জমিতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে আসছি। তিনি আরও বলেন, যেসব সড়কের পাশে গবাদিপশুর বিচরণ কম, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে, যাতে চারাগুলো সহজে বেড়ে উঠতে পারে। মানুষসহ পৃথিবীর সব প্রাণীই বৃক্ষের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে শ্রাবণ মাস বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, পতিত জমি কিংবা যেখানে সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে, সেখানেই আমাদের গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণ করি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করি এই হোক সবার অঙ্গীকার। তিনি জানান, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সন্তোষপুর নবজাগরণ যুব সংঘের নাইস মিয়াসহ স্থানীয় তরুণেরা সহযোগিতা করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মসিউর, শাকিল, বায়জিদ, নীরব, ফারদিন, আলমাছ, সাব্বির রহমান এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৃক্ষরোপণ শেষে উপস্থিত গ্রামবাসী সংগঠনটির পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


