আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগডি গ্রেড থেকে সি গ্রেডে উন্নীত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

ডি গ্রেড থেকে সি গ্রেডে উন্নীত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ




গাংনী অফিস:

ডি গ্রেড থেকে সি গ্রেডে উন্নীত গাংনীতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তাদের গ্রেড উন্নীতকরণ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা।
সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, ২০০৩ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন শ্রেণি বা ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করার সময় তারা বৈষম্যের শিকার হন। এ বৈষম্যের অবসান এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ২০০৮-০৯ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রিট আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেন। কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরবর্তী সময়ে আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে রায় বহাল থাকে। সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত ধাপেও গড়ায়। সিভিল রিভিউ পিটিশন কেস নম্বর ১৪০/২০২২-এর রায় হয় ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি। তাদের দাবি, ওই রায়েও চূড়ান্তভাবে রিট আবেদনকারীদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত আসে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যথানিয়মে রায় বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করে। তবে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই নতুন করে বিভ্রান্তি ও বিরোধ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা।
তাদের দাবি, অন্যান্য এলাকার রিটসহ মোট ১১টি রিট আদালতে বিচারাধীন থাকলেও বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে ২০০৮-০৯ সালে দায়ের করা ২৭২৬/০৯ ও ৬২৩৫/০৮ নম্বর রিটের চূড়ান্ত আদেশের ভিত্তিতে রায় বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে কিছু স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে চলমান প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি ও বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
লিখিত প্রতিবাদে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা আরও দাবি করেন, অন্য ৯টি রিটের বিষয় এবং কথিত কিছু নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে সুবিধা নেয়ার প্রত্যাশায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, এ ধারাবাহিকতায় মিথ্যা ও সাজানো তথ্য দিয়ে একটি পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদককেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃত তথ্য আড়াল করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিকৃত তথ্য সরবরাহের ফলেই ওই পত্রিকায় মনগড়া তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। প্রতিবেদনটি হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে তারা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
রিটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা লিখিতভাবে আরও জানান, ২৭২৬ ও ৬২৩৫ নম্বর রিটের মামলা পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব তারা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাহাজ উদ্দিন, নুরুল হুদা ও মাহাবুবুর রহমানকে দিয়েছিলেন। তাদের দাবি, এই তিনজন অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে মামলাগুলো পরিচালনা করে কাক্সিক্ষত ফলাফল এনে দিয়েছেন। তারা বলেন, রায়ের পর ওই তিনজন কখনোই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে যাননি। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি বা বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রতিবাদে ‘সবুজ’ নামে উল্লেখ করা একজন ব্যক্তির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাদের কোনো অবৈধ লেনদেন নেই। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে তাদের কোনো অনিয়মতান্ত্রিক সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই বলেও দাবি করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, কথিত অভিযোগে যেসব নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই বানানো, সাজানো, ভুয়া ও কল্পনাপ্রসূত। এসব নামের সঙ্গে প্রকৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে তাদের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া যখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বাধা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরির অপচেষ্টা করা হচ্ছে। সবশেষে ২৭২৬/০৯ ও ৬২৩৫/০৮ নম্বর রিটে সংযুক্ত সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী তাদের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট অনতিবিলম্বে প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ