মেহেরপুর/দর্শনা অফিস:
চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গ্রেপ্তার হয়েছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. খালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটকের পর তাকে মেহেরপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মেহেরপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তাকে নিয়ে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা যায়, এম. এ. খালেক চিকিৎসার জন্য বৈধ মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেলে আসিফ রেজাকে সঙ্গে নিয়ে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় তার কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মেহেরপুরের গাংনীতে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে গাংনী থানায় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার তথ্যও পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে চেকপোস্টেই পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। পরে মেহেরপুর জেলা পুলিশের ডিবি ইউনিটের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানায়, গাংনী থানার মামলা নম্বর ১৫তে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় মামলাটি করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, এম. এ. খালেকের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সাব-ইন্সপেক্টর তারিক হোসেন জানান, এম. এ. খালেকের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা থাকায় ইমিগ্রেশনের সময় তার বিষয়ে সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে তাকে আটক করে মেহেরপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এম. এ. খালেক মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বাবার নাম মোজাহার আলী বিশ্বাস। তিনি মেহেরপুরের গাংনী বাজারের থানা রোড এলাকার বাসিন্দা এবং গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান বলেন, দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে এম. এ. খালেককে হেফাজতে নিয়ে মেহেরপুরে নিয়ে আসে।
এদিকে এম. এ. খালেকের ছেলে আসিফ রেজা বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার হৃদ্যন্ত্রে ব্লক রয়েছে। বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য তাকে ভারতে নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটকে দেয়া হয়। আসিফ রেজার দাবি, তার বাবার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আদালত থেকে জামিন নেয়া রয়েছে। তার জানামতে, তার বাবার নামে কোনো নিয়মিত মামলা নেই এবং যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোতে তিনি জামিনে আছেন। তবে পুলিশ বলছে, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল গাংনী থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এম. এ. খালেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ একাধিক মামলার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


