সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ফুলবাড়ির মাঠে একটি হাঁসের খামারে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। মুখোশধারী ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দেশি ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে খামারি ও তার কর্মচারীর হাত-পা বেঁধে ৫১৫টি হাঁস নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারির মালিক কাশেম পরামানিক। লুট হওয়া হাঁসগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খামারি কাশেম পরামানিক পাবনা জেলার বাসিন্দা হবি পরামানিকের ছেলে। স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি ফুলবাড়ির মাঠে হাঁসের খামারটি গড়ে তোলেন। তার দাবি, ডাকাতির আগে খামারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি হাঁস ছিল।
কাশেম পরামানিক বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে তারা খামারে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে ৭ থেকে ৮ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ডাকাতেরা হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। খামারি বলেন, পরে তারা বস্তায় করে হাঁস ভরতে শুরু করে। হাঁসগুলো একটি মিনি পিকআপে তোলা হচ্ছিল। এমনকি আমাকে দিয়েও হাঁস বস্তায় ভরে গাড়িতে তুলিয়েছে। একপর্যায়ে ৫১৫টি হাঁস নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ডাকাতি হওয়া হাঁসগুলোর বাজারমূল্য সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি। ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
খামারের কর্মচারী রাসেল শেখ বলেন, প্রতিদিনের মতো হাঁস চরানোর পর রাতে খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ মুখোশধারী কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পরে হাত-পা বেঁধে খামারের হাঁসগুলো নিয়ে যায় তারা। রাসেল শেখ বলেন, আমরা বাইরের মানুষ। আমাদের সঙ্গে এভাবে ডাকাতির ঘটনায় আমরা খুবই আতঙ্কিত।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ রহমান বলেন, রাতে একটি ফার্ম থেকে কে বা কারা হাঁস নিয়ে গেছেÑএ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে খামারে সংঘবদ্ধ ডাকাতির অভিযোগের ঘটনায় খামারি, কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


