নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় নবনিযুক্ত সরকারি আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারি আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সততা, নৈতিকতা ও পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটায় জেলা শহরের সাহিদ প্যালেসের তৃতীয় তলায় জিপি-পিপি অফিস চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সরোয়ার বাবুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দলের শৃঙ্খলা সবার আগে। যারা জাতীয়তাবাদী দলের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও দলের শৃঙ্খলা মানেন না, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি কেউ পছন্দ করেন না, আমরাও করব না। প্রয়োজনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শক্ত হাতে দমন করা হবে। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ একটি সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। সংগঠনের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আছে। এর বাইরে গিয়ে কেউ প্রভাব বিস্তার বা উচ্চপদস্থ হওয়ার চেষ্টা করলে তা মেনে নেয়া হবে না। নবনিযুক্ত সরকারি আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা অত্যন্ত সম্মানের। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না। আপনাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কারণে যেন বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণ দলটির কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করবে। সরকারি আইন কর্মকর্তাদের কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা এমন কোনো কাজে জড়ালে, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি আইন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দলের একজন কর্মী হিসেবে আপনারা যে সম্মান পেয়েছেন, তা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। তাই নিজেদের অবস্থান থেকে দল ও জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভাবমূর্তি যাতে আরও উজ্জ্বল হয়, সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেক অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব এখন সবার।
সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট হেমায়েত উল্লাহ বেল্টু। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের দেয়া দিকনির্দেশনা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ অনুসরণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি আইন কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেয়া এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারি আইন কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং ন্যায়, নীতি ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন এবং বিচারপ্রার্থীদের অধিকার রক্ষায় আন্তরিক হতে হবে। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অ্যাডভোকেট হেমায়েত উল্লাহ বেল্টু বলেন, দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ ও দৃঢ় হওয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি জেলায় ই-বন্ড সাবমিশন কার্যক্রম চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ২৪টি জেলায় এ কার্যক্রম কার্যকর রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন আসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ। সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলার নবনিযুক্ত সরকারি আইন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় দায়িত্ব পালনে পেশাগত দক্ষতা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং আইনজীবী সমাজের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


