দর্শনা অফিস:
দর্শনা থানার আকন্দবাড়িয়ায় মাদক নির্মূল কমিটির নেতা ও সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। আহত লাল্টুর বাবা হান্নান বাদী হয়ে গতকাল রবিবার দর্শনা থানায় মামলাটি করেন। হামলার ঘটনায় আহতদের মধ্যে লাল্টু চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকন্দবাড়িয়া গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় যুবসমাজ ও গ্রামবাসী মিলে প্রায় তিন-চার মাস আগে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করেন। এরপর থেকে কমিটির সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আকন্দবাড়িয়ার রাঙ্গিয়ারপোতা ফার্ম এলাকায় এনামুল হক ইমাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে তিনটি ইয়াবাসহ আটক করেন মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ঘটনার পর আকন্দবাড়িয়া বটতলা বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম তুষার, সদস্য লাল্টুসহ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মো. নুরুল্লাহ এবং দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবাসহ আটক এনামুল হক ইমামকে দর্শনা থানার পুলিশ হেফাজতে নেয়। এছাড়া হামলার ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলাকালে রতনের ছেলে তানজিন (২১) নামের আরও একজনকে শনিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়। এদিকে হামলায় গুরুতর আহত লাল্টু চিকিৎসাধীন রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। তার বাবা হান্নান বাদী হয়ে আজ দর্শনা থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আকন্দবাড়িয়া গ্রামে হামলার ঘটনায় আহত লাল্টুর বাবা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় সব আসামিকে আটকের জন্য পুলিশের একটি দল কাজ করছে।


