আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাওন (৯) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নফরকান্দি গ্রামে নানাবাড়িতে পানিতে ডুবে মারা গেছে। সোমবার বিকেলে ছেলের মৃত্যুর খবর পান বাবা শাহীন হোসেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত নফরকান্দি গ্রামে ছুটে যান। পরে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে শাওনের মৃত্যু নিছক পানিতে ডুবে দুর্ঘটনাÑএমনটা মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সন্দেহ, শিশুটির মৃত্যুর পেছনে কারও অবহেলা ছিল কি না কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ নিয়ে এলাকায়ও নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শাওনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। নিহত শাওন আলমডাঙ্গা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার নানার নাম মৃত খালেদ।
পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই মাস ধরে শাওন তার মা তাসলিমা সাথীর সঙ্গে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নফরকান্দি গ্রামে নানাবাড়িতে বসবাস করছিল। বাবা শাহীন বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে ছেলের সঙ্গে কথা বলতেন এবং তার খোঁজখবর নিতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহীন প্রবাসে থাকাকালে তার স্ত্রী তাসলিমা সাথীর সঙ্গে ইতালি প্রবাসী একই গ্রামের এক যুবকের মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা খোরপোষ দেয়ার পর শাহীন ও তাসলিমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর শাওন তার মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে বসবাস করছিল। সোমবার বিকেলে হঠাৎ মুঠোফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পান শাহীন হোসেন। খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত নফরকান্দি গ্রামে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, পানিতে ডুবে শাওনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে তার মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। তিনি বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানান। শাহীন হোসেন বলেন, আমার ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটি নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। অবহেলার কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। আবার আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি জানান, নফরকান্দিতে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শাওনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
শাওনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শাওনের মরদেহ তার নিজ গ্রাম আলমডাঙ্গার বাঁশবাড়িয়ায় পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। ছোট্ট শাওনের নিথর দেহ দেখে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে বাঁশবাড়িয়া গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাওনের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সন্দেহের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাইল বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


